ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ব্যাংক হিসাব থেকে আবগারি শুল্ক কাটা শুরু হবে। গ্রাহকদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে টাকার বিষয়টি জানানো হয়। এতে গ্রাহকেরা হঠাৎ এমন বার্তা পেলে কিছুটা বিভ্রান্তিতে পড়েন, দুশ্চিন্তায় পড়েন—কেন টাকা কাটল।
আবগারি শুল্ক হলো একধরনের পরোক্ষ কর, যা সরকার নির্দিষ্ট কিছু পণ্য, সেবা বা আর্থিক কার্যক্রমের ওপর ধার্য করে। যেমন ব্যাংকে টাকা রাখা, মুঠোফোনে কথা বলা, সিগারেট কেনা ইত্যাদি। এ ধরনের শুল্ক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আয় ও মুনাফার ওপর বসে না। কোনো কার্যকলাপ বা সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বসে।
আপনার হিসাবে যদি বছরের যেকোনো সময় তিন লাখ টাকা পর্যন্ত থাকে, তাহলে কোনো আবগারি শুল্ক কাটা হবে না। এবার দেখা যাক, কত টাকার ওপর আবগারি শুল্ক কাটে: ১. ৩ লাখ ১ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ১৫০ টাকা ২. ৫ লাখ ১ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ৫০০ টাকা ৩. ১০ লাখ ১ টাকা থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ৩ হাজার টাকা ৪. ৫০ লাখ ১ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা ৫. ১ কোটি ১ টাকা থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা ৬. ২ কোটি ১ টাকা থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ২০ হাজার টাকা ৭. ৫ কোটি টাকার বেশি ৫০ হাজার টাকা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আবগারি শুল্ক কাটে। কিন্তু এনবিআরের পক্ষে ব্যাংকগুলো হিসাব থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবগারি শুল্ক কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়।
মোটাদাগে সব ধরনের হিসাব থেকেই আবগারি শুল্ক কাটা হয়। যেমন সঞ্চয়ী হিসাব, চলতি হিসাব, এফডিআর, ডিপোজিট পেনশন স্কিম (ডিপিএস), বেতনভিত্তিক হিসাব ইত্যাদি। আবগারি শুল্ক বসানোর বেশ কিছু কারণ আছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই আবগারি শুল্ক আদায় করে।
আবগারি শুল্ক বসানোর কারণে গ্রাহকেরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। কারণ এতে গ্রাহকেরা তাদের হিসাবে থাকা টাকার ওপর আবগারি শুল্ক কাটা হবে। এই শুল্ক কাটার ফলে গ্রাহকেরা তাদের হিসাবে থাকা টাকার ওপর কম আবগারি শুল্ক দিতে হবে।
এই আবগারি শুল্ক বসানোর ফলে সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। কারণ এই শুল্ক কাটার ফলে সরকারি কোষাগারে আরও বেশি টাকা জমা হবে। এই টাকা সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করবে।
অতএব, আবগারি শুল্ক বসানোর ফলে গ্রাহকেরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন এবং সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে।



