ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা ব্রাসেলসে দুই দিনের আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। প্রশ্ন হল, রাশিয়ার জমা করা অর্থ ইউক্রেনকে ধার দেওয়া হবে কি না। ইউরোপীয় ইউনিয়নে রাশিয়ার প্রায় ২১০ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের সম্পদ জমা আছে। এর মধ্যে অধিকাংশই বেলজিয়াম-ভিত্তিক সংস্থা ইউরোক্লিয়ারের হেফাজতে রয়েছে। বেলজিয়ামসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্র ইতিমধ্যেই এই অর্থ ব্যবহারের বিরোধিতা করেছে।
ইউক্রেনের আর্থিক পরিস্থিতি খুবই সংকটাপন্ন। অর্থ সংকটের কারণে ইউক্রেনের অর্থনীতি কয়েক মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণভাবে ধ্বসে পড়তে পারে। একজন ইউরোপীয় সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, তিনি একটি চুক্তি হওয়ার ব্যাপারে ‘সতর্কভাবে আশাবাদী’। রাশিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নকে তাদের অর্থ ব্যবহার না করার সতর্ক করেছে। রাশিয়া ইতিমধ্যেই ইউরোক্লিয়ারের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে।
ব্রাসেলস সম্মেলন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার একটি চুক্তি এখন আগের চেয়ে বেশি সম্ভাবনাময়। রাশিয়া এখনও পর্যন্ত শান্তি প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। কিন্তু ক্রেমলিন জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইউরোপীয় নেতৃত্বাধীন একটি বহুজাতিক বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউরোপ একটি ‘সম্পূর্ণ অবক্ষয়’ এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং ইউরোপীয় মিত্ররা রাশিয়ার পতনের সুযোগ নিতে চাইছে।
ইউরোপীয় কমিশন প্রস্তাব করেছে, পরবর্তী দুই বছরে ইউক্রেনকে প্রায় ৯০ বিলিয়ন ইউরো ধার দেওয়া হবে। এটি ইউক্রেনের প্রয়োজনীয় অর্থের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। এখনও পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনকে শুধুমাত্র জমা করা অর্থের সুদ দিয়েছে, কিন্তু মূল অর্থ দেয়নি।
এই সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের ভবিষ্যত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে তার সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউক্রেনের জন্য এটি একটি সিদ্ধান্তের সময়, যা তাদের ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাবে।



