সরকার এ পর্যন্ত ১০টি বড় ব্যবসায় গোষ্ঠী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের মূল্য ৬৬,১৪৬ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, সামিট গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, জেমকন গ্রুপ, অরায়ন গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ এবং আরামিত গ্রুপ।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রেস বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। জাতীয় সমন্বয় কমিটির ৩০তম সভায় এই তথ্য প্রকাশিত হয়। এই সভায় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অর্থপাচার রোধ ও অর্থপাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের নির্দেশিকা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
দেশের ভিতরে এবং বিদেশে এসব গোষ্ঠীর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। দেশের ভিতরে ৫৫,৬৩৮ কোটি টাকা এবং বিদেশে ১০,৫০৮ কোটি টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ১০৪টি মামলা করা হয়েছে এবং ১৪টি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। চারটি মামলায় রায় দেওয়া হয়েছে।
বিদেশে সম্পদ উদ্ধারের জন্য ২১টি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হয়েছে। সরকার সম্পদ উদ্ধারের জন্য যৌথ তদন্ত দল গঠন করেছে। অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন ২০১২ সংশোধন করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়াও, এই পদক্ষেপগুলো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বাংলাদেশ ২০২৭-২৮ সালে এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিং (এপিজি) এর চতুর্থ রাউন্ড মিউচুয়াল ইভালুয়েশনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কিনা তা পরীক্ষা করা হবে। এই মূল্যায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থপাচার প্রতিরোধের ক্ষমতা মূল্যায়ন করা হবে।
এই প্রসঙ্গে, সরকারের এই পদক্ষেপগুলো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়াও, এই পদক্ষেপগুলো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



