বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ এবং বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে ২০১২ সালের এপ্রিলে গুম করা হয়েছিল। তারপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইলিয়াস আলীকে গুমের পর হত্যা করা হয়েছে।
ইলিয়াস আলী ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সিলেট-২ আসনে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১২ সালের এপ্রিলে ঢাকার বনানীতে বাসার কাছ থেকে ইলিয়াস আলীকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। তারপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হলে অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর আওয়ামী লীগ সরকার আমলে গুমের ঘটনাগুলো তদন্ত শুরু হয়। এই গুম-খুনের অন্যতম ‘কুশীলব’ হিসেবে র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সেনাবাহিনীর চাকরি হারিয়ে গ্রেপ্তার হন জিয়াউল।
তদন্তে জানা গেছে, ইলিয়াস আলীকে উঠিয়ে নেওয়া, রাস্তা থেকে তাঁকে গুম করা এবং তাঁকে পরবর্তী সময় হত্যা করা হয়েছে। এছাড়াও, ২০১৫ সালে বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম করে ভারতে পাচার করে দেওয়ার পেছনেও জিয়াউল আহসান জড়িত ছিলেন। তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০১৩ সালে ঢাকার তেজগাঁও থানার বিএনপি নেতা সাজিদুল ইসলাম সুমনসহ আটজনকে তুলে নেওয়ার কাজটি জিয়াউল আহসানের নির্দেশ এবং তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে হয়েছিল।
ইলিয়াস আলীসহ বিরোধী নেতাদের আওয়ামী লীগ আমলে গুম হওয়ার ঘটনাগুলোয় সরকারি সংস্থার বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠেছিল। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোও সরব হয়েছিল, তবে তখন কোনো সংস্থাই স্বীকার করেনি। তখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতারা গুমের অভিযোগগুলোকে ‘নাটক’ বলেও আখ্যায়িত করেছিলেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা গোলাম কিবরিয়া মিহিন, হাফেজ জাকির, চৌধুরী আলমের গুমের ঘটনায় জিয়াউল আহসানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাজুল ইসলাম আরও জানিয়েছেন, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে এক শর বেশি মানুষকে গুমের পর হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই মামলার তদন্ত চলমান। আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করবে। এই মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ হলে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিচার হবে।
এই ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই মামলার বিচার কার্যক্রম সম্পূর্ণ হলে বাংলাদেশের মানুষ জানতে পারবে যে কারা এই ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন এবং তারা কীভাবে এই অপরাধে জড়িত ছিলেন।
এই মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ হলে বাংলাদেশের মানুষ আশা করবে যে এই ধরনের



