বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রায় দশ মিলিয়ন শরণার্থী ভারতে এবং আরও ত্রিশ মিলিয়ন অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। এই বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য এগিয়ে এসেছিল।
বেশিরভাগ গবেষণা বিদেশী সরকার এবং ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক বেসরকারি সংস্থাগুলির কাজের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে, যেমন রেড ক্রস। কিন্তু অ-রাষ্ট্রীয় অভিনেতা, অর্থাৎ সাধারণ নাগরিকরা কীভাবে শরণার্থীদের সাহায্য করেছে?
প্রত্যেক দিনের মানুষের মানবিকতার বিষয়ে গবেষণা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যেখানে সাধারণ মানুষ অন্যদের সাহায্য করার জন্য ছোট ছোট কাজ করে। মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্রে, প্রত্যেক দিনের মানবিকতা বলতে বোঝায় ব্রিটিশ, অস্ট্রেলিয়ান, জাপানি এবং আমেরিকানরা মানবিক সংস্থাগুলিকে অর্থ এবং পণ্য দান করে, স্থানীয় রাজনীতিবিদদের কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য রাষ্ট্রীয় সমর্থন বৃদ্ধির জন্য লবিং করে এবং যুদ্ধের নৃশংসতার দিকে জনসাধারণের মনোযোগ আকর্ষণ করে।
মানবিকতার ইতিহাসবিদরা বিরলই মিশনারিদের ভূমিকা পরীক্ষা করেন, বিশেষ করে উপনিবেশবাদী সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতিতে। যখন মিশনারি মানবিক কাজ স্বীকৃত হয়, তখন এটি প্রায়শই সুসমাচার প্রচার এবং নব্য উপনিবেশবাদের একটি হাতিয়ার হিসেবে দেখা হয়। মিশনারি এবং মিশনারি সংস্থাগুলির সত্যিকারের উদ্দেশ্যগুলি তাই প্রশ্নবিদ্ধ এবং সন্দেহজনক হয়ে ওঠে।
আমার গবেষণা বাংলাদেশে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ান ব্যাপটিস্ট মিশনারিদের একটি কেস স্টাডি ব্যবহার করে এই নৃশংস সংঘর্ষের সময় তাদের নিঃস্বার্থ কাজ উন্মোচন করে। যদিও কিছু মিশনারি অস্ট্রেলিয়ান সরকারের নির্দেশে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন, অন্যরা তাদের নিরাপত্তার উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি সত্ত্বেও দেশ ছাড়তে অস্বীকার করেছিলেন।
আমার গবেষণা প্রকাশ করে যে ময়মনসিংহে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ান ব্যাপটিস্টরা বিভিন্ন উপায়ে বাস্তুচ্যুতদের জন্য উপকরণ সহায়তা প্রদান করেছিলেন। এর মধ্যে ছিল আশ্রয়স্থল প্রদান, চিকিৎসা সহায়তা এবং খাদ্য সরবরাহ।
এই গবেষণা মানবিকতার ইতিহাসে মিশনারিদের ভূমিকা সম্পর্কে আমাদের বোঝার ক্ষেত্রে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। এটি দেখায় যে মিশনারিরা শুধুমাত্র ধর্মপ্রচারক নয়, বরং মানবিক সংকটের সময় সহায়তা প্রদানকারীও।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাপটিস্ট মিশনারিদের ভূমিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় মানবিকতার ইতিহাসে। এটি আমাদের দেখায় যে মানবিকতা শুধুমাত্র সরকার এবং বেসরকারি সংস্থাগুলির কাজ নয়, বরং সাধারণ মানুষের কাজও।
এই গবেষণা আমাদের মানবিকতার বিষয়ে আরও গভীরভাবে চিন্তা করতে উত্সাহিত করে। এটি আমাদের দেখায় যে মানবিকতা শুধুমাত্র একটি ধারণা নয়, বরং একটি বাস্তবতা যা প্রতিদিন ঘটে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাপটিস্ট মিশনারিদের ভূমিকা একটি অনুপম উদাহরণ মানবিকতার। এটি আম



