আরব বসন্তের পতনের ১৫ বছর পেরিয়ে গেছে। ২০১০ সালের ১৭ই ডিসেম্বর তুনিসিয়ার এক যুবক মোহাম্মদ বুয়াজিজি পুলিশের হয়রানির প্রতিবাদে আত্মদাহ করেন। এই ঘটনায় তুনিসিয়ায় ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয় এবং ২৮ দিনের মধ্যে তুনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট জিন এল আবিদিন বেন আলি পদত্যাগ করেন।
তুনিসিয়ার এই বিক্ষোভ আরব বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ে। মিশর, লিবিয়া, ইয়েমেন এবং সিরিয়ায় বিক্ষোভ শুরু হয় এবং এই বিক্ষোভের ফলে পাঁচজন দীর্ঘকালীন শাসক পদচ্যুত হন।
জিন এল আবিদিন বেন আলি ১৯৮৭ সালে তুনিসিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আসেন। তিনি তুনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট হবিব বুরগিবাকে অসুস্থ বলে ঘোষণা করেন এবং নিজেই ক্ষমতায় আসেন। তিনি তুনিসিয়ায় একটি নিরঙ্কুশ শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন এবং বিরোধিতা করার অধিকার খর্ব করেন।
বেন আলির শাসনামলে তুনিসিয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়, কিন্তু দুর্নীতি এবং অসমতা বাড়ে। এই অবস্থার ফলে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ে এবং বিক্ষোভ শুরু হয়।
২০১১ সালের ১৪ই জানুয়ারি বেন আলি সরকার ভাঙ্গিয়ে দেন এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে। বেন আলি সৌদি আরবে পালিয়ে যান এবং ২০১৯ সালের ১৯শে সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
আরব বসন্তের ফলে মিশরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক, লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মর গাদ্দাফি, ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহ এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদও পদচ্যুত হন।
আরব বসন্তের ফলে আরব বিশ্বে এক নতুন যুগের সূচনা হয়। এই বিক্ষোভের ফলে আরব দেশগুলোতে গণতন্ত্রের পথ খুলে যায়। কিন্তু এই বিক্ষোভের ফলে আরব বিশ্বে এক নতুন ধরনের অস্থিতিশীলতাও তৈরি হয়।
আরব বসন্তের পতনের ১৫ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এই বিক্ষোভের ফলে আরব বিশ্বে যে পরিবর্তন এসেছে তা এখনও অব্যাহত রয়েছে। আরব বিশ্বের দেশগুলো এখনও গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
আরব বসন্তের পতনের ১৫ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এই বিক্ষোভের ফলে আরব বিশ্বে যে পরিবর্তন এসেছে তা এখনও অব্যাহত রয়েছে। আরব বিশ্বের দেশগুলো এখনও গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।



