পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে একটি নতুন পরিবেশ গড়ে উঠেছে। প্রথমে এই জায়গাটি ছিল জলাভূমি, কিন্তু বালু ভরাটের পর এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু বালুর কারণে গাছ রোপণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
এই কর্মসূচির অধীনে, ২৫০ প্রজাতির ১২০০ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এই গাছগুলো ফলদ, বনজ, ঔষধি, বিভিন্ন জাতের ফুল ও শোভাবর্ধক। এই গাছ রোপণের ফলে ক্যাম্পাসটি এখন সবুজ ও প্রশান্ত হয়ে উঠেছে। এখানে পাখি আসবে, শিক্ষার্থীরা ফল খাবে, ফুল দেখবে, সবুজ বৃক্ষের ছায়ায় বসবে, গাছ নিয়ে গবেষণা করবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০০৮ সালে নিচু জলাভূমি ভরাটের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস তৈরির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ২০১০ সালের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয় অবকাঠামো নির্মাণ। উঠে দাঁড়ায় আকাশছোঁয়া বড় বড় ভবন। কিন্তু কিছুতেই ক্যাম্পাসকে সবুজ করা সম্ভব হচ্ছিল না।
বালু ভরাটের কারণে এর আগে বিচ্ছিন্নভাবে ক্যাম্পাসে কিছু চারা রোপণ করলেও সেগুলো মারা যায়। ফলে বর্তমান প্রশাসন ৩০ একরের ক্যাম্পাসকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার জন্য বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল বিভাগ এবং স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষকসহ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ছয় সদস্যবিশিষ্ট বৃক্ষরোপণ কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির সদস্যরা জানান, তারা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুরুতেই ক্যাম্পাসের মাটি পরীক্ষা করেন। এরপর ৩০ একর ক্যাম্পাসকে ১ হাজার ২০০টি জোনে ভাগ করেন। এসব জোন থেকে আট ঘনফুট বালু তুলে ফেলে সেখানে গোবর, দোঁআশ মাটি দিয়ে এক মাস আগে থেকে জায়গা প্রস্তুত করা হয়। এসব জায়গা বিশেষভাবে প্রস্তুত হওয়ার পর চারা রোপণ শুরু হয়।
দেশের পরিবেশগত বিপর্যয় রোধ, জীববৈচিত্র্য, দুর্লভ গাছের সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধন মাথায় রেখে সংগ্রহ করা হয় ২৫০ প্রজাতির গাছ। এই গাছ রোপণের ফলে ক্যাম্পাসটি এখন সবুজ ও প্রশান্ত হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থীরা এখানে ফল খাবে, ফুল দেখবে, সবুজ বৃক্ষের ছায়ায় বসবে, গাছ নিয়ে গবেষণা করবে।
পাঠকদের জন্য প্রশ্ন: আপনার প্রিয় গাছ কোনটি? আপনি কি আপনার বাড়িতে গাছ রোপণ করেছেন? গাছ রোপণের গুরুত্ব সম্পর্কে আপনার কী ধারণা?



