রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে মহান বিজয় দিবসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘রাজাকার, আলবদর ও আলশামস’ এর প্রতিকৃতিতে জুতা নিক্ষেপ করেছেন। এই কর্মসূচি ‘হানাদার হান্ট’ নামে পালন করা হয়। তিনটি মাটির হাড়িতে ‘রাজাকার, আলবদর, আলশামস’ লিখে জুতা নিক্ষেপ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা লাখ লাখ নারীকে ধর্ষণ করেছে এবং নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, লাল-সবুজের পতাকার জন্য জীবন দিয়ে যুদ্ধ করা বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকেও এই পাকিস্তানপন্থি দোসররা নির্মমভাবে হত্যা করেছে।
জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি প্রসঙ্গে রাহী বলেন, যারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না, লাল-সবুজের পতাকাকে অস্বীকার করে, এখনো পাকিস্তানপন্থি চেতনা ধারণ করে এবং ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
শাখা ছাত্রদলের সংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল মিঠু বলেন, একাত্তরের দেশদ্রোহী রাজাকারদের ক্ষমা করা ছিল একটি চরম ভুল। সেই ভুলের মাশুল আজও আমাদের দিতে হচ্ছে। ৫ অগাস্টের পর থেকে তারা নানাভাবে মুক্তিযুদ্ধকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিভিন্ন ন্যারেটিভ তৈরি করছে।
তিনি বলেন, একাত্তরে যারা সংগঠনিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তারাই আজ বড় বড় বুলি আওড়াচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধকে ‘ভারতীয় ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে। একাত্তরের রাজাকাররা আজ সরাসরি না থাকলেও তাদের আদর্শ ও বংশধররা এখনো দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা এই ধরনের কর্মসূচির সমর্থন করেছে এবং রাজাকারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
এই ঘটনার পর থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ছাত্রদলের নেতারা এই কর্মসূচির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা আশা করছে যে এই কর্মসূচি রাজাকারদের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে সাহায্য করবে।



