পেট্রোবাংলার একজন পরিচালকের বিরুদ্ধে দেশের গ্যাস মজুদের গোপন তথ্য বিদেশিদের কাছে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানে নেমেছে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পেট্রোবাংলার পরিচালক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থের বিনিময়ে দেশের গ্যাস মজুদের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপন তথ্য বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করেছেন।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ ও পুনঃসংযোগ প্রদান, বিধিবহির্ভূতভাবে গ্রাহকের গ্যাস বিল মওকুফ, জনবল নিয়োগ ও পদোন্নতিতে জালিয়াতি এবং ঠিকাদারদের বিল পরিশোধে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে প্রায় ১০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো অনুসন্ধানের জন্য কমিশন অনুমোদন দিয়েছে এবং ইতিমধ্যে একজন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে পেট্রোবাংলার পরিচালক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর দাপ্তরিক মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।
এই মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। দুদক এই বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করছে এবং প্রয়োজনে আরও ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে।
এই ঘটনায় পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ এখনও কোনো মন্তব্য করেনি। তবে দুদক এই মামলার তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।
এই ঘটনা দেশের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রামে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুদকের এই উদ্যোগ দেশের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইচ্ছার পরিচয় দেয়।
এই মামলার তদন্ত শেষে যদি রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়, তাহলে তাকে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। এটি দেশের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রামে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হবে।



