চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক কর্মকর্তা পদোন্নতির জন্য আবেদন করেছেন। এই কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার হিসেবে কর্মরত। তিনি সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন করেছেন।
সিরাজুল ইসলাম ২০০৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিম্নমান সহকারী হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি একাধিক ধাপে পদোন্নতি পেয়ে ২০২২ সালে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হন। তবে এবার তিনি নিজেকে বৈষম্যের শিকার দাবি করে পদোন্নতির আবেদন করেছেন।
চলতি বছরের আগস্টে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় এলাকাবাসীর সংঘর্ষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য, তৎকালীন প্রক্টরসহ দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে ৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিরাজুল ইসলাম এই সভায় বক্তব্য দেন। তাঁর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সিরাজুল ইসলামসহ চারজনকে সেকশন অফিসার থেকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতির সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়েছে। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করবেন উপাচার্য ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও একাডেমিক কর্মকর্তারা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেট সভায় হবে।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, তিনি দীর্ঘদিন পদোন্নতিতে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করেছেন এবং সাক্ষাৎকারে অংশ নেবেন। সংঘর্ষ-সংক্রান্ত শোকজের জবাবও তিনি দিয়েছেন বলে জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সাক্ষাৎকারে ডাকা মানেই পদোন্নতি নয়’। তিনি আরও বলেন, সাক্ষাৎকারের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা চাইছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন। এদিকে, সিরাজুল ইসলামের পদোন্নতির আবেদন নিয়ে বিতর্ক চলছে। কেউ কেউ তাঁর পদোন্নতির বিরোধীতা করছেন। তারা বলছেন, সিরাজুল ইসলামের বক্তব্য অনুচিত ছিল। তাই তাঁর পদোন্নতি হওয়া উচিত নয়।
শেষ পর্যন্ত, সিরাজুল ইসলামের পদোন্নতি নিয়ে বিতর্ক চলছে। এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অপেক্ষা করছেন সবাই। আশা করা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন। এটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
পাঠকদের জন্য প্রশ্ন: আপনার মতে, সিরাজুল ইসলামের পদোন্নতি হওয়া উচিত কি না? আপনার মতামত আমাদের সাথে শেয়ার করুন।



