গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে এক নীরব মানসিক স্বাস্থ্য সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকটকে মনস্তাত্ত্বিকরা ‘নৈতিক আঘাত’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন, যা সৈন্যদের মধ্যে চরম অপরাধবোধ, লজ্জা এবং নিজের প্রতি বিতৃষ্ণার জন্ম দিচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৮৫ হাজারেরও বেশি সৈন্য মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসার সাহায্য চেয়েছেন। এটি দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আত্মহত্যার পরিসংখ্যান ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই সংকট কেবল যুদ্ধ-ভীতিজনিত পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার নয়। বরং এর মূল কারণ হলো নৈতিক আঘাত। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বেসামরিক মানুষ হত্যায় অংশ নেওয়া সৈন্যদের মধ্যে আত্মহত্যার অন্যতম শক্তিশালী পূর্বাভাস।
একজন রিজার্ভ অফিসার গত সপ্তাহে গাজা থেকে ফেরার পর তীব্র মানসিক কষ্টের কারণে আত্মহত্যা করেছেন। আরেক ২১ বছর বয়সী সৈন্য আইনপ্রণেতাদের বলেছেন যে গাজা অভিযানে অংশ নেওয়ার কারণে তিনি এখন একটি চলন্ত লাশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৈন্যদের মধ্যে এই ধারণা জন্মেছে যে তারা এমন একটি রেখা অতিক্রম করেছেন যা আর পেরোনো সম্ভব নয়। এই দ্বন্দ্বে তীব্র অপরাধবোধ, লজ্জা ও অনুশোচনা জন্ম নেয়। সমাজ থেকে বিচ্ছিন্নতা এবং আত্মহত্যার ঝুঁকি বৃদ্ধির এই চিত্র এখন ইসরায়েলি সমাজের একটি প্রধান উদ্বেগের বিষয়।
অনেক সৈনিকের স্ত্রীরা বর্ণনা করছেন যে তাদের স্বামীরা শারীরিকভাবে ফিরে এলেও মানসিকভাবে অনেক আগেই গাজায় মারা গেছেন। এই সংকট ইসরায়েলি সমাজের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইসরায়েলি সরকারকে এই সংকট মোকাবেলার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। সৈন্যদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া এবং তাদের পরিবারের সাহায্য করা প্রয়োজন। এই সংকট মোকাবেলার জন্য সমষ্টিগত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
ইসরায়েলি সমাজের জন্য এই সংকট এক বড় চ্যালেঞ্জ। এই সংকট মোকাবেলার জন্য সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। সৈন্যদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য সমষ্টিগত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।



