চট্টগ্রাম-১৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই জরিমানা করা হয়েছে শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে। জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, তফসিল ঘোষণার পর এটি প্রথম জরিমানার ঘটনা।
চট্টগ্রাম জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নাজমুল মোস্তফা আমিন গাড়ি ও মোটরসাইকেল নিয়ে শোভাযাত্রা করেছেন, যা নির্বাচন কমিশন ঘোষিত রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা–২০২৫-এর ৯ নম্বর ধারা লঙ্ঘন। এ কারণে বিধান অনুযায়ী তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, শনিবার বেলা ৩টার দিকে নাজমুল মোস্তফা আমিন সাতকানিয়া থেকে শোভাযাত্রা নিয়ে লোহাগাড়া অভিমুখে যাত্রা করেন। এ সময় তিনি মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেন। এ কারণে তাৎক্ষণিক জরিমানা করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাতকানিয়া এলাকা থেকে শুরু হওয়া ওই শোভাযাত্রায় কয়েক শ মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি অংশ নেয়। শোভাযাত্রাটি লোহাগাড়ার আমিরাবাদ এলাকায় পৌঁছালে সেখানে তাঁকে জরিমানা করা হয়। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এ অংশ বেশ ব্যস্ততম। শোভাযাত্রার কারণে এই সড়কে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
স্থানীয়রা আরও জানান, শনিবার অলি আহমদ বীর বিক্রম স্টেডিয়ামে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় একটি দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। জরিমানার পর বিকেল ৫টার দিকে নাজমুল মোস্তফা আমিন ওই দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নাজমুল মোস্তফা আমিনের সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে একটি পথসভায় তিনি এ ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন।
নির্বাচনী আচরণবিধির ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, প্রচারণার সময় কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে অন্য কেউ বাস, ট্রাক, নৌযান, মোটরসাইকেলসহ কোনো যান্ত্রিক যান ব্যবহার করে মিছিল, জনসভা বা শোভাযাত্রা করতে পারবেন না। যানবাহন থাকুক বা না থাকুক, মশালমিছিলও নিষিদ্ধ। প্রচারণায় হেলিকপ্টার বা অন্য আকাশযান ব্যবহার করা যাবে না। তবে দলীয় প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের নেতারা যাতায়াতের প্রয়োজনে হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারবেন, তবে সে সময় কোনো প্রকার প্রচারণা করা যাবে না।
এই ঘটনার পর বিএনপি নেতারা এই জরিমানাকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে দেখছেন। তাঁরা বলছেন, সরকার পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। তবে সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিএনপি নেতারা বলছেন, তাঁরা এই জরিমানার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করবেন। এই ঘটনার পর নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি নেতারা। তাঁরা বলছেন, নির্বাচন কম



