গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র প্রবেশ, প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ ও সন্ত্রাসীদের নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ে সমন্বিতভাবে একটি বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনার দাবি জানাই। নুরুল হক নুর বলেছেন, ওসমান হাদি দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। হাদি এখন হাসপাতালে শয্যাশায়ী। চিকিৎসকদের ভাষায় তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
নুরুল হক নুর বলেছেন, প্রায় ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো হামলাকারীদের শনাক্ত বা গ্রেফতারে কোনো অগ্রগতি হয়নি। তিনি বলেছেন, অতীতের মতো এবারও সরকার শুধু সান্ত্বনার বাণী দিচ্ছে। কিন্তু দোষীদের ধরতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এই বক্তব্য আমরা আগেও শুনেছি। শেখ হাসিনাও এমন কথা বলতেন। শুধু আশ্বাস দিয়ে জনগণকে শান্ত রাখা যাবে না।
সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে অভিযোগ করে নুরুল হক নুর বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের পর একের পর এক সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটছে। চট্টগ্রামে সংসদ সদস্য প্রার্থীর গুলিবিদ্ধ হওয়া, আল রাজী কমপ্লেক্সে হামলা, স্বর্ণ ও ব্যাংক ডাকাতির মতো ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচার হয়নি। এসব ঘটনায় সরকারের কঠোর অবস্থানের অভাবই আজকের পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
নুরুল হক নুর বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের মামলার আসামিরা এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীরা সহজেই জামিন পাচ্ছে, এমনকি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেছেন, এই হামলা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এর পেছনে একটি সংগঠিত চক্র কাজ করছে। সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান দরকার।
নুরুল হক নুর বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের যারা রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তারাই এখন সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ। অথচ যারা আন্দোলনে ছিলেন না, তারাই রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। এমন পরিস্থিতিতে ফ্যাসিবাদী শক্তি আবার মাথাচাড়া দিচ্ছে।



