গাজা উপত্যকায় একটি অস্থায়ী তাঁবুতে, ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে যে শিশুরা শারীরিক ও মানসিক আঘাতের শিকার হয়েছে, তারা ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে একটি নতুন জগতে প্রবেশ করছে। এই প্রযুক্তি তাদের একটি নিরাপদ পরিবেশে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে তারা আবার শিশু হিসেবে বেঁচে থাকতে পারে।
গাজা মেডটেক নামক একটি প্রযুক্তি উদ্যোগ এই প্রকল্পটি পরিচালনা করছে। এই উদ্যোগের সমন্বয়কারী লামা আবু দালাল বলেছেন, এই শিশুরা যুদ্ধের কারণে তাদের শরীরে ও মনে গুরুতর আঘাতের স্মৃতি বহন করছে। কিন্তু ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে তারা তাদের আঘাতগুলো ভুলে যেতে পারছে এবং কিছুক্ষণের জন্য হলেও শিশু হিসেবে আনন্দ পাচ্ছে।
গাজা মেডটেক প্রকল্পটি প্রতিষ্ঠা করেছেন ফিলিস্তিনি উদ্ভাবক মোসাব আলী। তিনি তার আহত ছেলেকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করেছিলেন। পরে তিনি একটি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন।
গবেষণায় দেখা গেছে, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি মানসিক ব্যাধিগুলোর চিকিৎসায় উপকারী হতে পারে, বিশেষ করে পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি)। গাজায় এই সেবা প্রদান করা কঠিন হচ্ছে, কারণ ইসরায়েলের অবরোধের কারণে সরঞ্জামের অংশগুলো গাজায় প্রবেশ করতে পারছে না।
ইসরায়েল ও গাজার মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে, ইসরায়েল গাজায় সামান্য পরিমাণে সাহায্য পাঠাচ্ছে। কিন্তু এটি গাজার চাহিদার তুলনায় খুবই কম। গাজার কর্তৃপক্ষ বলছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরায়েল কমপক্ষে 738 বার লঙ্ঘন করেছে।
জাতিসংঘের হিসাব মতে, গাজার 90 শতাংশেরও বেশি শিশু গুরুতর মানসিক চাপের শিকার হয়েছে। এটি তাদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার অভাবের কারণে হচ্ছে।
গাজার শিশুদের জন্য ভার্চুয়াল রিয়েলিটি একটি নতুন আশার সম্ভাবনা তৈরি করছে। এটি তাদের যুদ্ধের আঘাত থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করছে এবং তাদের শিশুত্বের স্বাদ আবার ফিরিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু এই প্রকল্পটি টিকে থাকার জন্য, আরও সাহায্য ও সমর্থনের প্রয়োজন। আমরা কি গাজার শিশুদের জন্য এই আশার সম্ভাবনাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারব?



