মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী স্বীকার করেছে যে তারা দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের একটি হাসপাতালে বিমান হামলা চালিয়েছে, যার ফলে ৩৩ জন নিহত হয়েছে। সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে নিহতরা সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্য এবং তাদের সমর্থক, কিন্তু বেসামরিক নগরবাসী নয়।
সাক্ষী, সহায়তা কর্মী, বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং জাতিসংঘ সবাই বলেছে যে নিহতরা হাসপাতালে থাকা বেসামরিক নাগরিক ছিল। মিয়ানমারের সরকারী গ্লোবাল নিউ লাইট অফ মিয়ানমার পত্রিকায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সামরিক বাহিনীর তথ্য দফতর বলেছে যে সশস্ত্র গোষ্ঠী, যার মধ্যে রয়েছে আরাকান আর্মি এবং পিপলস ডিফেন্স ফোর্স, হাসপাতালটিকে তাদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছে।
সামরিক বাহিনী বলেছে যে তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বুধবার ম্রাউক-ইউ টাউনশিপের সাধারণ হাসপাতালে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযান চালিয়েছে। তবে জাতিসংঘ বিবৃতি দিয়েছে যে এই হামলাটি দেশজুড়ে বেসামরিক নাগরিক এবং বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষতি করা বিমান হামলার একটি বিস্তৃত প্যাটার্নের অংশ।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টার্ক এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেছেন যে তিনি এই হামলায় ক্ষুব্ধ। মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে দেশটি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
ম্রাউক-ইউ শহরটি দেশের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গনের ৫৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। আরাকান আর্মি ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সালে এই শহরটি দখল করেছিল। আরাকান আর্মি হল রাখাইন জাতিগত সংখ্যালঘু আন্দোলনের সুপ্রশিক্ষিত এবং সুসজ্জিত সামরিক শাখা, যারা মিয়ানমার থেকে স্বায়ত্তশাসন চায়।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘর্ষের ফলে দেশটির বেসামরিক নাগরিকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি এই সংঘর্ষের অবসান ঘটাতে এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য কাজ করছে।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় নিহতদের পরিবারগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা ন্যায়বিচার এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে। জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি এই পরিবারগুলির সাহায্য করার জন্য কাজ করছে।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলা দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতির উপর একটি গুরুতর প্রভাব ফেলেছে। জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য কাজ করতে বলছে।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলার ফলে দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির অর্থনীতি ইতিমধ্যেই দুর্বল, এবং সামরিক বাহিনীর বিমান হামলা এই পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাবে।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলা দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘর্ষের ফলে দেশটির রাজনৈতিক স্থ



