একাত্তরের ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে মাদারীপুর সদর ছাড়া বাকি সব থানা মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। পাকিস্তানি বাহিনী তখন মাদারীপুর শহরে অবস্থান নেয়। মুক্তিযোদ্ধারা সিদ্ধান্ত নেন, তারা শহরের চারপাশ থেকে একযোগে পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালাবেন।
আট থেকে দশ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ চলে। পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করলে দশ ডিসেম্বর মাদারীপুর সদর মুক্ত হয়। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি প্রকাশিত বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জ্ঞানকোষ বইয়ে লেখা আছে, পাকিস্তানি বাহিনী ২২ এপ্রিল মাদারীপুরে বিমান হামলা চালায়।
পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের তিন দিনের লড়াই ছিল ভয়ানক। মুক্তিবাহিনী সব দিক ঘিরে আক্রমণ চালানোয় পাকিস্তানি বাহিনীর পালানোর পথটিও বন্ধ হয়ে যায়। তাদের আত্মসমর্পণের দৃশ্য মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মুক্তিযোদ্ধারা জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালান তারা। এই অঞ্চলে ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক মিলে গঠিত ‘খলিল বাহিনী’ মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মাদারীপুর সদরে মুক্তিযোদ্ধাদের কলাগাছিয়া প্রধান ক্যাম্পে খবর আসে, পাকিস্তানি বাহিনী মাদারীপুর ছেড়ে ফরিদপুরের দিকে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে। সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে খবর পাঠানো হয়। তারা পাকিস্তানি বাহিনীর চলে যাওয়ার পথ ধরে অবস্থান নেন।
পাকিস্তানি বাহিনী আটটি ট্রাক ও একটি সামরিক গাড়িতে করে তাদের দোসর রাজাকার–আলবদরসহ তল্পিতল্পা নিয়ে মাদারীপুর ছেড়ে রওনা দেয়। ঘটকচর ব্রিজ পার হয়ে পাকিস্তানি বাহিনী কিছু দূর এগোতেই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধারা পেছন থেকে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করেন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ সেক্টরভিত্তিক ইতিহাস বইয়ে এই তিন দিনের যুদ্ধের কথা উল্লেখ আছে। সেখানে লেখা হয়েছে, আট ডিসেম্বর মাদারীপুর সদরে মুক্তিযোদ্ধাদের কলাগাছিয়া প্রধান ক্যাম্পে খবর আসে, পাকিস্তানি বাহিনী মাদারীপুর ছেড়ে ফরিদপুরের দিকে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে।



