যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল মিউজিয়ামের আর্কাইভ থেকে ৬০০র বেশি সাংস্কৃতিক নিদর্শন চুরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, চুরি হওয়া জিনিসগুলোর মধ্যে সামরিক পদক, গয়না, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যাজ এবং পিন, হাতির দাঁত দিয়ে খোদাই করা বুদ্ধের মূর্তি, ব্রোঞ্জ ও রুপার মূর্তি রয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে চুরি হয়েছে জাদুঘরে। তবে বিষয়টি সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। পুলিশ চার জন সন্দেহভাজনের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করেছে।
সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করতে জনসাধারণের কাছেও আবেদন করেছে গোয়েন্দা ও পুলিশ। সন্দেহভাজনদের পরিধান-বিবরণও প্রকাশ করা হয়েছে। চুরি হওয়া জিনিসগুলোর বেশির ভাগই ব্রিটিশ এম্পায়ার অ্যান্ড কমনওয়েলথ মিউজিয়ামের সংগ্রহশালার, যেগুলো ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ব্রিস্টল মিউজিয়ামের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।
ব্রিস্টল সিটি কাউন্সিলের ‘কালচার অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রিজ’ বিভাগ-এর প্রধান ফিলিপ ওয়াকারের কথায়, ‘এই শিল্পকর্মগুলো ছিল ২০০ বছরের ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ও সংশ্লিষ্ট ইতিহাসের জীবন্ত দলিল। বিশ্বজুড়ে অনেক দেশের অতীতের অমূল্য রেকর্ড ছিল এসব সংগ্রহে।’
ফিলিপ ওয়াকার জানিয়েছেন, জাদুঘরের কর্মীরা পরদিন চুরির ঘটনা টের পান। ‘পুরো জায়গাটা যেন তছনছ হয়ে ছিল।’ ‘বিভিন্ন বাক্স খোলা, জিনিস ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। যেগুলো চুরি হয়নি, সেগুলোরও অনেক কিছু মেঝেতে পড়ে ছিল। তাকগুলো এলোমেলো, সংগ্রহগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। খুবই বিধ্বস্ত অবস্থা।’
সিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, আর্কাইভে দু’বার চুরির ঘটনা ঘটে এবং দ্বিতীয় দফায় ৯৫ শতাংশ সামগ্রী চুরি গেছে।
অ্যাভন ও সামারসেট পুলিশের ডিটেকটিভ কনস্টেবল ড্যান বারগান বলেছেন, ‘সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হারানো নগরীর জন্য বড় ক্ষতি।’
তিনি জানান, সিসিটিভি, ফরেনসিক ও অন্যান্য তদন্ত এখনও চলছে এবং তারা আশা করছেন, জনসাধারণের সহায়তায় অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
চুরি হওয়া সামগ্রীর মধ্যে আছে নেকলেস, বালা, আংটি, খোদাই করা মূর্তিসহ প্রাকৃতিক ইতিহাসের নমুনা ও ভূতাত্ত্বিক নমুনাও।
অ্যাভন ও সমারসেট পুলিশের কর্মকর্তা ড্যান বুরগন বলেন, ‘কী ভাবে দুর্লভ সামগ্রীগুলো চুরি হল, কোথায় গাফিলতি ছিল, সে সম্পর্কে তদন্ত চলছে।’
পুলিশ জনসাধারণের সহায়তা চাইছে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে। তারা আশা করছেন, জনসাধারণের সহায়তায় অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
এই ঘটনার তদন্ত চলছে। পুলিশ জনসাধারণের সহায়তা চাইছে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে।



