দেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রথমবারের মত সিন্থেটিক মাদক ‘এমডিএমবি’র একটি চালান জব্দ করেছে। এই মাদকটি মূলত ভেপ বা ই সিগারেটের কার্টিজে মিশিয়ে সেবন করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফ শুক্রবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া থেকে এ মাদক সংগ্রহ করে দেশে এনেছে একটি চক্র। ওই চক্রের হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন খন্দকার তৌকিরুল কবির তামিম, মেহেদী হাসান রাকিব, মাসুম মাসফিকুর রহমান ওরফে সাহস এবং আশরাফুল ইসলাম। তাদের কাছ থেকে ৩৪০ মিলিলিটার এমডিএমবি, গাঁজার চকলেট এবং ভেপ ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
এমডিএমবি নামের এ ধরনের তরল মাদক মানবদেহে ইচ্ছেমত বিভিন্নরকম মাদকের প্রভাব তৈরি করতে পারে। এগুলোকে ‘ডিজাইনার ড্রাগ’ বলা হয়। এই ধরনের মাদকের ব্যবহার বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বিশ্বজুড়ে এই ধরনের মাদকের বিস্তার রোধে নজরদারিতে নামে। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলাদেশেও এ ধরনের মাদকের বিস্তার রোধে নজরদারিতে নামে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকার একটি গোয়েন্দা দল। তাদের তৎপরতায় এমডিএমবি জব্দ করা হয় প্রথমবারের মত।
এই ধরনের কৃত্রিম রাসায়নিক মাদক গাঁজা, আফিম বা কোকেনের মত প্রভাব তৈরি করতে পারে। এগুলোকে বলা হচ্ছে ‘নিউ সাইকোট্রাপিক সাবস্টেন্স’ বা এনপিএস। অনেক দেশে আইনকে পাশ কাটাতেও এ ধরনের রাসায়নিক মাদকের ব্যবহার বাড়ছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, এমডিএমবি ভেপের কার্টিজে ব্যবহার করলেই সাংঘাতিক প্রভাব তৈরি হয়। এই ধরনের মাদকের ব্যবহার রোধে সকলকে সচেতন হতে হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এই ধরনের মাদকের বিস্তার রোধে কাজ করে যাচ্ছে। এই কার্যক্রমে সকলকে সহযোগিতা করতে হবে। মাদকের বিস্তার রোধে আমাদের সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।



