নিউ জিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে অনুষ্ঠিত টেস্ট ম্যাচে নিউ জিল্যান্ড দল বিজয়ী হয়েছে। প্রথম দুই দিনে ম্যাচে লড়াই হয়েছিল জমজমাট। তৃতীয় দিনে লড়াই শুধু একতরফাই হলো না, ম্যাচের ফয়সালাও হয়ে গেল!
নিউ জিল্যান্ডের বোলার জেকব ডাফি ও মাইকেল রাই দুর্দান্ত বোলিংয়ে পার্থক্য গড়ে দিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অননুমেয় চরিত্রও বেরিয়ে এলো আরেকবার। আগের টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে প্রায় দুই দিন টানা ব্যাট করে ম্যাচ বাঁচানো দলের ব্যাটিং এবার ভেঙে পড়ল হুড়মুড়িয়ে।
ওয়েলিংটন টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৯ উইকেটে উড়িয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল নিউ জিল্যান্ড। ২ উইকেটে ৩২ রান নিয়ে দিন শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয়ে যায় মাত্র ১২৮ রানেই। প্রথম ইনিংসে ৭৩ রানে এগিয়ে থাকা নিউ জিল্যান্ড ৫৬ রানের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় কেবল ১০ ওভারেই।
জেকব ডাফি ৩৮ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ক্যারিবিয়ান ব্যাটিংয়ে ধস নামান। মাইকেল রাই প্রথম টেস্টের তিন উইকেটের সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসে যোগ করেন আরও তিনটি। ডাফি-রাই খেলার সুযোগ পেয়েছেন মূলত চোটের কারণে নিউ জিল্যান্ডের প্রথম পছন্দের চার পেসার না থাকায়।
আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান ব্র্যান্ডন কিং ও কাভেম হজ শুরু করেছিলেন সতর্কভাবেই। দলের রান পঞ্চাশে নিয়ে যান দুজন। কিন্তু হঠাৎ ঝুঁকিপূর্ণ সিঙ্গল নিতে গিয়ে কিং রান আউট হয়ে যান ২২ রানে। ওই ওভারেই আলগা শটে রাইকে ফিরতি ক্যাচ দেন ক্যারিবিয়ানদের সবচেয়ে বড় ভরসা শেই হোপ।
একটু পর বিদায় নেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক রস্টন চেইসও। বিপর্যয়ে বারবার হাল ধরার জন্য একসময় তার নাম হয়ে গিয়েছিল ‘ক্রাইসিস ম্যান।’ অধিনায়ক হওয়ার পর তিনিই এখন বড় ক্রাইসিসে। নেতৃত্বের ১৪ ইনিংসে তার ব্যাটিং গড় ১৫.২৮, ফিফটি নেই একটিও।
তখনও পর্যন্ত এক প্রান্ত আগলে রাখা কাভেম হজ পারেননি ইনিংস লম্বা করতে। ৩৫ রানে তিনি ফেরেন জ্যাকারি ফোকসের বলে বদলি ফিল্ডার উইল ইয়াংয়ের দারুণ ক্যাচে। নিউ জিল্যান্ডের এই জয়ের কৃতিত্ব তাই একটু বেশিই।
পরবর্তী ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জয়ের জন্য পুরো শক্তি দিয়ে খেলতে হবে। নিউ জিল্যান্ড তাদের এই জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাইবে। দেখা যাক পরবর্তী ম্যাচে কি হয়।



