বাংলাদেশের মোবাইল ফোন বাজারে গ্রে মার্কেটের বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হলো উচ্চ কর এবং ডলারের অভাব। ফলে, আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের দাম বেড়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, গ্রে মার্কেটের বিক্রেতারা সুবিধা নিচ্ছে।
একজন মন্ত্রণালয়ের সচিব বাংলাদেশের একটি শপিং কমপ্লেক্সে একটি ফ্ল্যাগশিপ ফোন কিনতে গিয়েছিলেন। সেখানে তাকে অফিসিয়াল সেলার থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল যাতে সে ঐ ফোনটি সেখান থেকে কেনে না। পরিবর্তে, তাকে অন্য একটি দোকানে পাঠানো হয়েছিল, যেখানে সে ফোনটি অর্ধেক দামে কিনতে পেরেছিলেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে ব্যবহৃত একটি ব্র্যান্ডের প্রিমিয়াম ফোনের ৯৩ শতাংশ গ্রে মার্কেট থেকে এসেছে। মিড-রেঞ্জ মডেলের ক্ষেত্রে, এই সংখ্যাটি ৬৯ শতাংশ। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন যে তারা এই ডিভাইসগুলি আমদানি করেন প্রত্যাবর্তনকারী ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে।
সরকার এখন অবৈধ মোবাইল ফোন ব্লক করার জন্য একটি কেন্দ্রীয় সিস্টেম চালু করার পরিকল্পনা করছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। তারা বলছেন যে অফিসিয়াল মোবাইল ফোন বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টেশন এবং প্রক্রিয়াগুলি ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য বাস্তবসম্মত নয়। এছাড়াও, অনেক ভোক্তা অফিসিয়াল মোবাইল ফোন কিনতে পারবেন না, কারণ সেগুলির দাম ৩৫ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ বর্তমানে আমদানিকৃত স্মার্টফোনের উপর বিশ্বের সর্বোচ্চ কর আরোপ করছে, যা ৫৭ থেকে ৫৯ শতাংশ। এটি ভোক্তাদের গ্রে মার্কেটের দিকে ধাবিত করছে, যেখানে মোবাইল ফোন কেনা যায় অনেক সস্তায়। অফিসিয়াল মোবাইল ফোনের দাম ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায়। গ্রে মার্কেটের ডিভাইসগুলি সমস্ত কর এড়িয়ে যায়,
বাংলাদেশের মোবাইল ফোন বাজারে গ্রে মার্কেটের বৃদ্ধি একটি উদ্বেগজনক বিষয়। সরকারকে এই সমস্যা সমাধানের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায়, গ্রে মার্কেটের বৃদ্ধি চালিয়ে যাবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হবে।



