ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিশ্বের অন্যতম দ্রুততম প্রবৃদ্ধির মধ্যে রয়েছে। দেশটির জিডিপি ৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি। কিন্তু এই প্রবৃদ্ধির পিছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা রয়েছে – বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কম।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে কোম্পানিগুলিকে বেশি বিনিয়োগে উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। কর্পোরেট ট্যাক্স কমানো, উৎপাদন প্রকল্পে সাবসিডি দেওয়া এবং দেউলিয়া আইন প্রবর্তন করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের কিছু ফলাফল দেখা যাচ্ছে। গুগল, আদানি, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং টাটা কনসাল্টেন্সি সার্ভিসেসের মতো বহুজাতিক কোম্পানিগুলি নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছে।
কিন্তু বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে চলছে না। গত বছরের শেষের দিকে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ৩৪.৪ শতাংশ ছিল, যা শেষ ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের অংশ জিডিপিতে ১১.৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ৮ বছর আগের তুলনায় ১.৫ শতাংশ কম।
এই পরিস্থিতি সরকারকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য বেশি ব্যয় করতে বাধ্য করছে। এছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্ক ভারতীয় রফতানিকে আরও বাধাগ্রস্ত করছে। বিশ্বব্যাপী শুল্কের অনিশ্চয়তা এবং সস্তা চীনা পণ্যের ঢল কোম্পানিগুলিকে সতর্ক করে তুলছে। কিন্তু ভারতের বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কম হওয়া একটি দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা।
এই পরিস্থিতির ফলে একটি দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীরা ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানাচ্ছে, যা গত সেপ্টেম্বর মাসে ৮.২ শতাংশ ছিল। কিন্তু এই প্রবৃদ্ধির পিছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা রয়েছে – বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কম।
সেপ্টেম্বর মাসে, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান এস. মহেন্দ্র দেব বেসরকারি খাতকে বেশি বিনিয়োগে আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে, ২০২৩ সালের মার্চ মাসে, প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজেই বড় বড় কোম্পানিগুলিকে বেশি বিনিয়োগে আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারকে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার জন্য আরও পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায়, ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।



