ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের বিষয়ে গোপন সমঝোতা করা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই সমঝোতা জাতিসংঘের সঙ্গে হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, এই সমঝোতার বিষয়ে কমান্ডার জেনারেল নিয়াজি ও ইসলামাবাদে প্রেসিডেন্ট আগা মুহাম্মদ ইয়াহিয়া খান জানতে পারেন।
ঢাকায় বিদেশি নাগরিকরা আটকে পড়ার পরিস্থিতি বাড়ছে। তারা বুঝতে পারছে যে তারা রাজনৈতিক ঘুঁটিতে পরিণত হচ্ছে। পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকায় শেষ রক্ষার লড়াই করতে চাইছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, শহরে আরও অনেক সেনা নিয়ে আসা হচ্ছে বা তারা স্বেচ্ছায় ফিরে আসছে শহরে।
জেনারেল নিয়াজি বিমানবন্দরে এক সাংবাদিককে বলেছেন, এখানে আমাকে মরতে দেখবেন আপনি। আমেরিকান দূতাবাসের অবস্থা বেশ নিম্নমুখী। বোঝা যাচ্ছে, আমেরিকা পরাজিতে।
ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যসেবা-সংক্রান্ত গ্রন্থাগারে সকালের মাঝামাঝি বিস্ফোরণ হলো। ধ্বংসস্তূপ ১০০ গজ পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিল। বিভিন্ন বই রাস্তার চারপাশে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে ছিল। মুক্তিবাহিনী কি এটি করেছে? গ্রন্থাগারিক বললেন, যে ব্যক্তি বিস্ফোরণটি ঘটিয়েছে, সে উর্দুতে কথা বলছিল, যা কিনা পশ্চিম পাকিস্তানের ভাষা।
কে জানে? কয়েক মিনিটের মধ্যে ধ্বংসস্তূপ থেকে বইগুলো লুট হয়ে গেল। এক বৃদ্ধ একটি বই হাতের নিচে লুকিয়ে চলে গেলেন। দিনের সবচেয়ে বড় গুজব হলো মার্শাল ল আইনের উপপ্রশাসক এবং এখানে পাকিস্তানি বাহিনীর ‘ভদ্রলোক জেনারেল’ নামে খ্যাত জেনারেল রাও ফরমান আলী খান পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি বাহিনীর শর্ত সাপেক্ষে আত্মসমর্পণের বিষয়ে গোপন সমঝোতা করছেন, হয়তো জাতিসংঘের সঙ্গে।
বিমান নিয়ে সমস্যার একটি দিক হলো, রাজনৈতিক কারণে ভারত বলছে যে তারা কলকাতা থেকে বিমান উড়িয়ে ঢাকায় আনতে চায়। কিন্তু পাকিস্তান ওই একই রাজনৈতিক কারণে তাতে সম্মত হচ্ছে না। আটকে পড়া বিদেশিরা বুঝতে পারছে যে তারা ক্রমেই রাজনৈতিক ঘুঁটিতে পরিণত হচ্ছে। ক্রমেই বোধ হচ্ছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ঢাকায় শেষ রক্ষার লড়াই করতে চায়।



