বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) স্বাধীন পরিচালকদের একটি তালিকা তৈরি করতে যাচ্ছে, যাতে কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসার জন্য উপযুক্ত পরিচালক নির্বাচন করতে পারে। বিএসইসি কমিশনার ফরজানা লালরুখ একটি অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন, যা ইনস্টিটিউট অফ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ বাংলাদেশ (আইসিএবি) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) সম্মিলিতভাবে আয়োজন করেছিল।
স্বাধীন পরিচালকদের শিল্প সম্পর্কিত দক্ষতা থাকা দরকার, এমনটা ফরজানা লালরুখ জানান। তিনি বলেন, কিছু কোম্পানি এমন পরিচালক নিয়োগ করে যাদের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা নেই। উদাহরণস্বরূপ, একটি কাপড়ের কোম্পানি একজন নারী পরিচালক নিয়োগ করেছে যিনি বাংলা সাহিত্য পড়ান, এবং একজন ডাক্তারকে একটি ব্যবসায় নিয়োগ করা হয়েছে যা তার ক্ষেত্রের সাথে সম্পর্কিত নয়।
কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড অনুসারে, প্রতিটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির অবশ্যই কমপক্ষে একজন স্বাধীন নারী পরিচালক থাকতে হবে। যদিও নারী পরিচালক নিয়োগের সময়সীমা ২০২৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত মাত্র ১৩৮টি কোম্পানি এই শর্ত পূরণ করেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সহজ করার জন্য, বিএসইসি পুরুষ ও মহিলা উভয় স্বাধীন পরিচালকদের একটি তালিকা তৈরি করার পরিকল্পনা করছে, যারা কোম্পানির ব্যবসায় দক্ষ।
আইসিএবির প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমানে ২১ জন মহিলা চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বোর্ডে কাজ করছেন, এবং আরও ১৩৪ জন পরিচালক হিসেবে কাজ করার জন্য প্রস্তুত। আইসিএবি ২০২৬ সালে আইএফসির সাথে সম্মিলিতভাবে স্বাধীন পরিচালকদের জন্য গঠনমূলক প্রশিক্ষণ শুরু করার পরিকল্পনা করছে।
ফরজানা লালরুখ কর্পোরেট সংস্কৃতির গুরুত্বের উপরও জোর দেন। তিনি বলেন, যদি আমরা অভ্যন্তরীণ কাঠামো ঠিক না করি এবং ভালো শাসন প্রতিষ্ঠা না করি, তাহলে স্বাধীন পরিচালকরা পরিস্থিতি উন্নত করতে পারবেন না।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট কামরান টি রহমান এবং সৈয়দ নাসিম মানজুরও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বিএসইসির এই উদ্যোগ বাংলাদেশের কর্পোরেট সেক্টরে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি কোম্পানিগুলোকে তাদের ব্যবসার জন্য উপযুক্ত স্বাধীন পরিচালক নির্বাচন করতে সাহায্য করবে, যা তাদের কর্মক্ষমতা এবং শাসন উন্নত করবে।



