সচিবালয়ে কর্মচারীদের ঝুঁকি ভাতা দাবিতে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সচিবালয় একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, তাই এখানে মিছিল-মিটিং করার অনুমতি নেই। তবুও কর্মচারীরা আইন লঙ্ঘন করে বিক্ষোভ করেছেন। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে।
সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি বাদিউল কবীর ও সহসভাপতি গোলাম রাব্বানী শাহীনসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সচিবালয়ে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনও প্রশাসনিক বা ব্যক্তিগত কর্মকর্তাকে বাইরে যেতে দেখা যাচ্ছে না। পুলিশ সবাইকে কাজে ফিরে যেতে অনুরোধ জানিয়েছে।
এর আগে, দুপুর থেকেই সচিবালয়ের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামনে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা জড়ো হতে থাকেন। মন্ত্রণালয়ে ঢোকার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করেন তারা। এরপর বিকেল ৩টার দিকে ছয় ও সাত নম্বর ভবনের মাঝে বাদামতলায় এসে জড়ো হন সচিবালয় কর্মচারীরা। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে তারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অতিক্রম করে সামনে যেতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময়ে চারজনকে আটক করে পুলিশ।
প্রিজনভ্যান থেকে বাদিউল কবীর বলেন, ‘কর্মচারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। সবাই আগামী রবিবার কর্মবিরতি পালন করবেন। অধিকার আদায়ের আগে আমরা থেমে যাব না।’
ডিএমপির ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি ডিভিশনের যুগ্ম কমিশনার সানা শামীনুর রহমান বলেন, রোববার থেকে সচিবালয় বন্ধের একটা হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আমরা তাৎক্ষণিক চারজনকে গ্রেপ্তার করেছি—এটা আপনারাও দেখেছেন। এখানে আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব—কার কতটুকু দায়-দায়িত্ব রয়েছে।
সানা শামীনুর রহমান বলেন, এটি (সচিবালয়) বাংলাদেশের প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র। এখানে কোনও ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিং করার অনুমতি নেই। তিনি বলেন, কেপিআই হিসেবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সার্কুলারে সচিবালয়, সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট, এবং প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন–এলাকায় মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমরা গতকাল (বুধবার) এবং আজও তাদেরকে এই মেসেজটি দেওয়ার চেষ্টা করেছি—যাতে কোনও বিশৃঙ্খলা না হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে।
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বলেন, গতকাল তারা আইন ভঙ্গ করে উপদেষ্টাকে জিম্মি করে তাদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার চেষ্টা করেছেন। এটি ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ বাধ্য হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা নিতে।



