মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন। তাঁরা উভয়েই অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তাঁদের নির্বাচনী আসনও অনেকটা নিশ্চিত। তবে তাঁরা কোনো দলে যোগ দেবেন, নাকি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।
মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির ছাত্রনেতা হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে স্থান পেয়েছিলেন। গতকাল বুধবার তাঁরা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। আজ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়া মাত্র তাঁদের পদত্যাগ কার্যকর হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদের ঘনিষ্ঠতা ছিল। দলটিতে তাঁদের প্রভাবও ছিল। তবে গত কয়েক মাসে আসিফের সঙ্গে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের দূরত্ব তৈরি হয়। আর সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এনসিপিতে মাহফুজের প্রভাবও কমে এসেছে। এসব কারণে মাহফুজ ও আসিফ এনসিপিতে না আসার সম্ভাবনা বেশি বলে দলটির কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে।
গণ অধিকার পরিষদের অন্যতম শীর্ষ নেতা রাশেদ খান বলেছেন, ‘আসিফ মাহমুদ একসময় আমাদের সহযোদ্ধা ছিলেন। তাঁর সঙ্গে আমাদের সখ্য আছে, একধরনের রাজনৈতিক বন্ধন আছে। তিনি গণ অধিকার পরিষদের ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছেন। আমরাও এ ব্যাপারে ইতিবাচক।’
মাহফুজ ও আসিফের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, তাঁরা দুজনই বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে আগ্রহী। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁরা কথাও বলেছেন। তবে কিছুই এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অবশ্য তাঁদের দিক থেকে একটি বিষয় অনেকটা চূড়ান্ত, মাহফুজ আলম লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ উপজেলা) এবং আসিফ মাহমুদ ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এখন মাহফুজ ও আসিফ কোন দল থেকে নির্বাচন করবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা হচ্ছে। তাঁদের পদত্যাগের আগের রাতে রাজধানীর হেয়ার রোডে নিজের সরকারি বাসভবনে তাঁরা বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকের মধ্য দিয়ে তাঁরা তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যত সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
মাহফুজ ও আসিফের পদত্যাগের ঘটনাটি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি নতুন মোড় নিয়ে এসেছে। তাঁদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নানা মতামত ব্যক্ত করছেন। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, মাহফুজ ও আসিফের পদত্যাগ ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।



