শহীদ পিন্টু স্মৃতি সংসদ পুলিশ প্রধান বাহারুল আলমের পদত্যাগ দাবিতে পুলিশ সদর দপ্তর ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে সংগঠনের নেতাকর্মীরা সরকারী কর্মচারী হাসপাতাল পার হয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের দিকে যাওয়ার সময় তাদের ব্যারিকেড দিয়ে আটকিয়ে দেওয়া হয়।
রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আলম জানিয়েছেন, তারা আধা ঘন্টার মত ছিল। বুঝিয়ে বলার পর চলে যায়। কোনো হাঙ্গামা হয়নি। এর আগে গত মঙ্গলবার একই দাবিতে শাহবাগ মোড়ে দুই ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
পিন্টু স্মৃতি সংসদের সভাপতি রফিক আহমেদ জানিয়েছেন, তারা বর্তমান আইজিপি পদত্যাগ দাবি করছেন। বিএনপি নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন পিন্টু পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পরে গ্রেপ্তার হন এবং বন্দি অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এরপর তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা শহীদ পিন্টু স্মৃতি সংসদ গঠন করে।
সংগঠনটির অভিযোগ, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর নাসির উদ্দিন পিন্টুকে ‘মিথ্যা মামলায়’ জড়িয়ে ‘ষড়যন্ত্রমূলকভাবে’ কৌশলে পিন্টুকে ‘হত্যা’ করা হয়েছে। বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বর্তমান আইজিপির নাম আসার পর থেকে এই পুলিশ কর্মকর্তাকে অপসারণ, গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিতের দাবীতে ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে শহীদ পিন্টু স্মৃতি সংসদ। এরই মধ্যে তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদর দপ্তরে রক্তাক্ত বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। ওই সময় পুলিশের বিশেষ শাখার নেতৃত্বে ছিলেন বাহারুল আলম। তিনি বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৯৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তা।
হত্যাকাণ্ডের দেড় দশক পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বে এলে ওই ঘটনা পুনঃতদন্তের দাবি ওঠে। পরে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। সেই কমিশন গত ৩০ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে ‘দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার’ জন্য নাম এসেছে বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলমের।
শহীদ পিন্টু স্মৃতি সংসদের সভাপতি রফিক আহমেদ জানিয়েছেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। দাবি পূরণে সবার সঙ্গে আলোচনা করে তারা বড় কর্মসূচি দেবেন।



