কুষ্টিয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের ঘটনায় ট্যুরিস্ট পুলিশের এক সদস্যসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অপহৃত শিক্ষার্থী কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী এবং শহরের পূর্ব মজমপুর সাদ্দাম বাজার গলির বাসিন্দা।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভিকটিমকে উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে।
অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মো. স্বপন বর্তমানে ঢাকায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মরত। তিনি গত পাঁচ মাস ধরে ওই ছাত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে উত্ত্যক্ত করছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
গত ১৮ নভেম্বর দুপুর ১টার দিকে বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় স্বপনসহ ২-৩ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে ছাত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। উদ্ধার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে পরিবার থানায় মামলা দায়ের করে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর জানিয়েছেন, ভিকটিম উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। দ্রুতই অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন তিনি।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন, মেয়েটিকে উদ্ধারে পুলিশ সচেষ্ট এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে।
এদিকে অপহরণের ২৪ দিন পরও ছাত্রী উদ্ধারে অগ্রগতি না থাকায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, মেয়ে বেঁচে আছে কি না জানি না, আমরা শুধু তাকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পেতে চাই।
ঢাকা ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি মখলেসুর রহমান জানিয়েছেন, মামলাটি কুষ্টিয়ার, সেখানেই বিস্তারিত জানা যাবে। তবে অভিযুক্ত সদস্য স্বপনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এই ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে এবং দ্রুত অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে। পরিবার ও স্থানীয় সমাজ এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত ন্যায়বিচার দাবি করছে।
পরিশেষে, এই ঘটনাটি আমাদের সমাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি আমাদের সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করছে। আশা করা যায়, পুলিশ প্রশাসন দ্রুত এই ঘটনার সমাধান করতে সক্ষম হবে এবং অপহৃত শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হবে।



