রিশাদ এশিয়া কাপে নিয়মিতই গুগলি করতে দেখা যাচ্ছে। দেড় বছর ধরে তাঁর এ উন্নতির পথের সঙ্গী বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ। পাকিস্তানের সাবেক এই লেগ স্পিনার রিশাদকে গুগলি শেখানোর কারিগর।
রিশাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অভিষেক ২০২৩ সালে। পরের বছরই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে এ পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে বেশি উইকেটে নেওয়ার রেকর্ড গড়েন। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৩৫ উইকেট নেওয়া রিশাদ এ বছরও এই সংস্করণে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি (৩৩)।
মুশতাক আহমেদ জানিয়েছেন, রিশাদ তাঁর কথা শুনেছেন, এই কথা মাথায় রেখে অনেক অনুশীলন করেছে, একইভাবে বারবার বল করেছে, এভাবেই গুগলি শিখেছে। গুগলিতেও লেগ ব্রেকের মতোই বলটা একই অ্যাঙ্গেল থেকে আসবে, শুধু রিস্ট পজিশনটা বদলাতে হবে, লেগ স্পিনের চেয়ে উল্টোভাবে।
ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে বাংলাদেশের হয়ে ৩২ ম্যাচে ৫০ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এত অল্প সময়ে তাঁর উন্নতির পেছনেও ভূমিকা রেখেছে মুশতাকের কিছু টোটকা। মুশতাক আহমেদ আরও জানিয়েছেন, রিশাদ এখন তার রিস্ট পজিশনটা বুঝতে পারছে। যখন আপনি গুগলি করতে যাবেন, তখন বডির শেপ হারিয়ে ফেলবেন, মাথা একদিকে হেলে যাবে, এটাকে আমি সহজ করার চেষ্টা করেছি।
রিশাদের গুগলি শেখার গল্প জানার পর এটা স্পষ্ট যে তাঁর উন্নতি কোনো অকস্মাট ঘটনা নয়, বরং অনেক পরিশ্রম ও অনুশীলনের ফল। মুশতাক আহমেদের কোচিংয়ের ফলে রিশাদ এখন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা স্পিনার। তাঁর গুগলি শেখার গল্প অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে অন্য যেকোনো ক্রিকেটারের জন্য।
বাংলাদেশের ক্রিকেট দল এখন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে রিশাদের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে। রিশাদের গুগলি শেখার গল্প আমাদের সবাইকে অনুপ্রেরণা দেয় যে পরিশ্রম ও অনুশীলনের মাধ্যমে আমরা যেকোনো কিছু অর্জন করতে পারি।



