আধুনিক জীবনের দ্রুত পরিবর্তন মানুষের মানসিক চাপকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৮ কোটি মানুষ উদ্বেগ-জনিত ব্যাধিতে আক্রান্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বিশ বছরে বৈশ্বিক মানসিক চাপের মাত্রা ৩০ শতাংশ বেড়েছে।
মানসিক চাপ মানুষের জীবনে একটি স্বাভাবিক অংশ। তবে, এই চাপকে কীভাবে গ্রহণ করা হয় তাতেই মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়। প্রাচীন শাস্ত্রে আত্ম-উপলব্ধিকে মানসিক শান্তির মূল চাবিকাঠি বলা হয়েছে। আত্ম-উপলব্ধি মানে নিজের সীমা, সামর্থ্য ও দুর্বলতাগুলি অনুধাবন করা।
ইতিহাসে দেখা যায়, মহৎ অর্জনের পিছনে প্রায়ই ছিল ভয়াবহ চাপের সঙ্গে মানুষের লড়াই। উইনস্টন চার্চিল বলেছিলেন, ‘আমার জীবনের দুশ্চিন্তাগুলির অধিকাংশই কখনো ঘটেই নাই।’ লেবাননের কবি খলিল জিবরান লিখেছেন, ‘আমাদের উদ্বেগ ভবিষ্যতের কারণে আসে না, আসে ইহাকে নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা হতে।’
মানসিক চাপ কেবল ধ্বংসের নয়, ইহা সৃষ্টিরও চালিকাশক্তি। মনোবিজ্ঞানী হ্যান্স সেল্যে বলেছেন, ‘চাপহীন জীবন স্থবির হয়ে পড়ে।’ তবে, চাপের মাত্রা যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন ইহা ধ্বংস ডাকিয়ে আনে।
আধুনিক জীবন যেন একটি প্রেসার কুকারের মতো—যেখানে অল্প সময়ে কাজ সম্পন্ন হয়; কিন্তু সেফটি ভাল্ভ নষ্ট হলে বিস্ফোরণ ঘটে। তাই, মানসিক চাপকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা জরুরি। আত্ম-উপলব্ধি এবং সঠিক পরিচালনা মানুষকে মানসিক চাপের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করতে পারে।
প্রশ্ন জাগে—এইভাবে কি বাঁচা যায়? সমস্যা অনন্ত, বিপদ ফুরন্ত—ভালো দিনের পর খারাপ দিনের আগমন যেন অবধারিত নিয়ম হয়ে যাচ্ছে। তবে, আত্ম-উপলব্ধি এবং সঠিক পরিচালনা মানুষকে মানসিক চাপের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করতে পারে। তাই, আমাদের উচিত আত্ম-উপলব্ধির গুরুত্ব বুঝতে এবং মানসিক চাপকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে।
সুপারিশ: মানসিক চাপ পরিচালনার জন্য আত্ম-উপলব্ধি অর্জন করুন এবং সঠিক পদক্ষেপ নিন। আপনি কি আত্ম-উপলব্ধি অর্জনের জন্য প্রস্তুত?



