বাংলাদেশ দেশীয় গ্যাস থেকে সরে গিয়ে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এটি বৈদেশিক মুদ্রা ডলারের মজুতের উপর চাপ বাড়িয়েছে। একশনএইড বাংলাদেশ এবং বিজনেস স্টান্ডার্ড যৌথভাবে আয়োজিত এক সংলাপে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলএনজি আমদানির কারণে বিদেশি অর্থদাতাদের ওপর নির্ভরতা আরও গভীর করেছে। এটি একটি আর্থিক ফাঁদ তৈরি করেছে। নরডিক দেশগুলো বিশ্বব্যাপী জলবায়ু নেতা হিসেবে পরিচিত, কিন্তু তাদের অর্থায়ন অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশকে ব্যয়বহুল জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে এলএনজি আমদানি শুরু করে বাংলাদেশ। ওই সময় থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এলএনজি আমদানি করতে খরচ হয়েছে মোট ১৭.৬ বিলিয়ন ডলার। এই আমদানি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এলএনজির বিশ্ববাজার অস্থির থাকে, মূল্য ওঠানামা করে। এতে অর্থনীতি ঝুঁকিতে থাকে।
খুলনায় নির্মিত ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ১.১৫ বিলিয়ন ডলার খরচ করে নির্মিত এ কেন্দ্রটি গ্যাসের অভাবে বসে আছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে না পারায় প্রকল্পটি আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করেছে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সময়ে খোলাবাজার থেকে এলএনজি কিনতে খরচ হয়েছে ১১ বিলিয়ন ডলার। এ পরিমাণ অর্থ দিয়ে সাড়ে ছয় গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা যেত। এলএনজি খাতে প্রতি এক ডলার বিনিয়োগ করলে আট ডলার লোকসান হয়। আর নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ১ ডলার বিনিয়োগ করে ৯ ডলার লাভ পাওয়া যায়।
বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এলএনজি আমদানি একটি ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি বাংলাদেশকে ব্যয়বহুল জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক ঝুঁকি তৈরি করছে। বাংলাদেশকে এলএনজি আমদানির উপর নির্ভরতা কমাতে হবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশের জন্য এলএনজি আমদানির বিকল্প খুঁজে বের করা জরুরি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো প্রয়োজন। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে এবং দেশকে টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
বাংলাদেশের এলএনজি আমদানি নীতি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এলএনজি আমদানির ঝুঁকি এবং সুবিধাগুলো বিশ্লেষণ করে একটি টেকসই শক্তি নীতি তৈরি করা উচিত। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত করতে সাহায্য করবে এবং দেশকে একটি টেকসই ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাবে।



