বাংলাদেশ নারী শ্রমিক কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম ২০২৫ সালের ফ্রাঙ্কো-জার্মান মানবাধিকার ও আইনের শাসন পুরস্কার পেয়েছেন। নারী শ্রমিকদের জন্য কাজের স্বীকৃতিতে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
ঢাকার ফ্রাঙ্কো-জার্মান দূতাবাসে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের বিশেষ আয়োজনে এই পুরস্কার হস্তান্তর করা হয়। ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে এবং জার্মান রাষ্ট্রদূত র্যুডিগার লোটস সুমাইয়া ইসলামের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
২০১৬ সাল থেকে ফ্রান্স ও জার্মানি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষায় অসাধারণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে যৌথভাবে এই সম্মাননা দিয়ে আসছে।
সুমাইয়া ইসলাম দীর্ঘ দিনের নিষ্ঠা ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি নারী, বিশেষত অভিবাসী নারী শ্রমিক, যৌনকর্মী, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ এবং অন্যান্য সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন।
সুমাইয়া ইসলাম গত দুই দশক ধরে বিএনএসকে ও বমসাসহ তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে কাজ করেছেন। এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে তিনি এখন বহু আঞ্চলিক নাগরিক সমাজ নেটওয়ার্কে অবদান রাখছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন এ সংগঠক।
ফ্রাঙ্কো-জার্মান দূতাবাস বলছে, সুমাইয়া ইসলামের অ্যাডভোকেসি এবং নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ বাংলাদেশি নারী অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও সুরক্ষা জোরদার করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনগত সংস্কার এগিয়ে নিতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।
সুমাইয়া ইসলাম বলেন, এটি তার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়, এবং ফ্রাঙ্কো-জার্মান মানবাধিকার পুরস্কার পেয়ে তিনি সত্যিই কৃতজ্ঞ ও গভীরভাবে আনন্দিত।
১৯৮৭ সাল থেকে আন্দোলন, প্রচারাভিযান এবং অ্যাডভোকেসিতে যুক্ত আছেন সুমাইয়া ইসলাম। পরে বাংলাদেশে মানবাধিকার রক্ষার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ নাগরিক সমাজ সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এই স্বীকৃতি তার কাজ এবং বিএনএসকের প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে।
ফ্রাঙ্কো-জার্মান মানবাধিকার পুরস্কার পাওয়া সুমাইয়া ইসলামের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি তার কাজের স্বীকৃতি এবং বাংলাদেশের নারী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় তার অবদানের প্রমাণ।
এই পুরস্কার বাংলাদেশের মানবাধিকার আন্দোলনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এটি দেশের মানবাধিকার কর্মীদের অনুপ্রেরণা দেবে এবং তাদের কাজকে আরও শক্তিশালী করবে।
সুমাইয়া ইসলামের এই পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মীরা এই পুরস্কারকে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন।
সুমাইয়া ইসলামের এই পুরস্কার বাংলাদেশের মানবাধিকার আন্দোলনের জন্য একটি নতুন দিক খুলে দেবে। এটি দেশের মানবাধিকার কর্মীদের আরও শক্তিশালী কর



