বুলগেরিয়ার একটি আদালত লেবাননের প্রত্যর্পণ আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। এই আবেদনটি ছিল ইগর গ্রেচুশকিনকে প্রত্যর্পণের জন্য, যিনি একজন রাশিয়ান-সাইপ্রিয়ট জাহাজের মালিক। তিনি ২০২০ সালের বৈরুত বন্দর বিস্ফোরণের সাথে সম্পর্কিত।
গ্রেচুশকিন হলেন রোসাস জাহাজের প্রাক্তন মালিক, যে জাহাজটি বলে করা হয় যে বৈরুত বন্দরে বিস্ফোরিত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বহন করছিল। ২০২০ সালের ৪ই আগস্ট এই বিস্ফোরণে কমপক্ষে ২১৮ জন মারা গিয়েছিলেন, ৬,৫০০ জন আহত হয়েছিলেন এবং বৈরুতের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।
গ্রেচুশকিনকে সেপ্টেম্বর মাসে বুলগেরিয়ায় গ্রেফতার করা হয়েছিল লেবাননের অনুরোধে ইন্টারপোল নোটিশের ভিত্তিতে। তিনি প্রত্যর্পণের বিষয়ে বিচার চলাকালীন আটক ছিলেন।
সোফিয়া সিটি কোর্ট রায় দিয়েছে যে লেবানন যথেষ্ট প্রমাণ দেয়নি যে গ্রেচুশকিনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে না বা যদি দেওয়া হয় তবে তা কার্যকর করা হবে না। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে সাত দিনের মধ্যে সোফিয়া কোর্ট অফ অ্যাপিলে। কর্তৃপক্ষ বলেছে যে গ্রেচুশকিন আপিল প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আটক থাকবেন।
লেবাননের কর্তৃপক্ষ বলেছে যে বিস্ফোরণটি একটি বন্দরের গুদামে আগুনের কারণে হয়েছিল, যেখানে প্রায় তিন হাজার টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বছরের পর বছর ধরে সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই সঞ্চয় করা হয়েছিল। এই বিস্ফোরণের পর থেকে লেবাননের কোনও সিনিয়র কর্মকর্তা এখনও পর্যন্ত দায়ী হননি।
বুলগেরিয়ার আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর লেবানন এবং বুলগেরিয়ার মধ্যে আইনি লড়াই চলতে পারে। গ্রেচুশকিনের আইনজীবী বলেছেন যে তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।
এই মামলার পরবর্তী ধাপ হবে সোফিয়া কোর্ট অফ অ্যাপিলে আপিল। এই আদালতের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। গ্রেচুশকিনের ভবিষ্যত এখন এই আদালতের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।



