সরকার পুলিশ কমিশন গঠনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট জারি করেছে। এই কমিশনের কাজ হবে পুলিশ বাহিনীর শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা এবং সামগ্রিক কর্মক্ষমতা উন্নত করার জন্য সুপারিশ করা।
আইন মন্ত্রণালয় আজ প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিশনের নেতৃত্ব দেবেন একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, যিনি সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ বা হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারক হবেন।
কমিশনের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে থাকবেন একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, যিনি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা সমতুল্য পদমর্যাদার অভিজ্ঞতা রয়েছেন; একজন অধ্যাপক, যিনি প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে দক্ষতা রয়েছেন; একজন মানবাধিকার কর্মী, যিনি কমপক্ষে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছেন; এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার, যিনি অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার বা উচ্চতর হবেন।
লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করার জন্য, কমিশনে কমপক্ষে দুইজন মহিলা সদস্য থাকবেন। চেয়ারম্যান তাদের অবসর গ্রহণের আগের পদমর্যাদা বজায় রাখবেন, অন্য সদস্যদের পদমর্যাদা সরকার নির্ধারণ করবে।
কমিশন পুলিশের শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা এবং কর্মক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করবে, নিশ্চিত করবে যে পুলিশের কর্মকাণ্ড জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কমিশন গ্রেপ্তার, জিজ্ঞাসাবাদ এবং বল প্রয়োগ তত্ত্বাবধান করবে, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রদান করবে অধিকার রক্ষার জন্য।
পুলিশের অসদাচরণ ও অযথা প্রভাব মোকাবেলায় সুপারিশ করা হবে, নিশ্চিত করা হবে যে তদন্ত ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে যে কমিশন একটি ব্যাপক ও আধুনিক পুলিশ আইন প্রণয়নে অবদান রাখবে, যা আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম অনুশীলনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
এই কমিশন গঠনের মাধ্যমে সরকার পুলিশ বাহিনীর সংস্কার ও উন্নতির প্রতি প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করেছে।
এই পদক্ষেপ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভবিষ্যতে এই কমিশনের কার্যক্রম পুলিশ বাহিনীর উন্নতি ও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।



