মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে অন্তর্ধান হওয়া সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনকে স্মরণ করা হচ্ছে। তার ছেলে তৌহীদ রেজা নূর বুধবার ফেইসবুকে এক পোস্টে তার বাবার স্মৃতিচারণ করেছেন।
১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর আল বদরের ঘাতকরা তাকে অপহরণ করেছিল। তারপর থেকে তিনি আর ফিরে আসেননি। সেই সময় পূর্ব পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবীরা পাকিস্তানি বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। তারা মুক্তির পক্ষে কলম ধরেছিল।
তৌহীদ রেজা নূর তার পোস্টে লেখেন, সেই সময় পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতায় সারা দেশ এক বিশাল বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু মানুষের মনে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ছিল। তিনি তার বাবা এবং মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদকে স্মরণ করেছেন।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, সংস্কৃতি কর্মীসহ বিভিন্ন পেশার বরেণ্য ব্যক্তিদের অপহরণ করে। পরে তাদেরকে রায়েরবাজার ও মিরপুরে নিয়ে হত্যা করা হয়।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত থেকেই সারাদেশের বুদ্ধিজীবীরা হত্যার শিকার হতে থাকে। এভাবে মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস ধরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা এ দেশের মানুষের ওপর যে গণহত্যা ও নৃশংসতা চালিয়েছে, তার নজির ইতিহাসে খুব বেশি নেই।
সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনকে অনেক কাছ থেকে দেখেছেন সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী। তিনি ২০২০ সালে এক সাক্ষাৎকারে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট জয়ী হওয়ার পেছনে বড় কৃতিত্ব সিরাজুদ্দীন হোসেনের।
গাফফার চৌধুরী বলেন, সিরাজুদ্দীন হোসেন শুধু সাংবাদিক, তা তো নয়। তিনি সাহিত্যিকও ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সমানে সমানে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, সিরাজুদ্দীন হোসেনের লেখনী মানুষকে উদ্দীপ্ত করেছিল।
ছয় দফা আন্দোলনের সময়, ১৯৬৬ সাল যখন বঙ্গবন্ধু ঠিক করলেন উনি লাহোরে গিয়ে ছয় দফা উত্থাপন করবেন, তিনি তখন সিরাজুদ্দীন ও গাফফার চৌধুরীকে ডেকেছিলেন।



