মানবাধিকার দিবস ২০২৫ উপলক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এক বাণী প্রদান করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রতিটি মানুষের জীবনের মূল্য মর্যাদার সঙ্গে এবং কোনো বৈষম্য ছাড়াই নিশ্চিত হতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ তার জাতীয় মানবাধিকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক অংশীদার ও জাতিসংঘের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় কাজ করে যাবে। তিনি আরও বলেছেন, বৈশ্বিক মানবাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মানবাধিকার দিবস উপলক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা ও জাতিসংঘ সনদে উল্লেখিত সব মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষায় দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছেন।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, তরুণদের নেতৃত্বে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দেড় বছর পর দেশ এবার মানবাধিকার দিবস পালন করছে। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ নিপীড়ন ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটায় এবং জনগণের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান জানান, সরকার এখন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, জনগণের বিপুল সমর্থনের ভিত্তিতে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতি আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশের অবদান অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান। সংঘাত, মানবিক সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করার কথা তুলে ধরেন তিনি।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মিয়ানমার এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত নেয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।



