27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকভূমধ্যসাগরে নৌকা দুর্ঘটনা: বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীরা প্রাণ বাঁচায়

ভূমধ্যসাগরে নৌকা দুর্ঘটনা: বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীরা প্রাণ বাঁচায়

ভূমধ্যসাগরে একটি নৌকা দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে অনেকে প্রাণ হারিয়েছে। এই দুর্ঘটনা ঘটেছে লিবিয়ার উপকূলের কাছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা-আইওএম এর তত্ত্বাবধানে দেশে ফিরে এসেছেন গোপালগঞ্জের আশিক মিনা। তিনি এই দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।

আশিক মিনা বলেছেন, ভূমধ্যসাগর পার হওয়ার পথটি দুর্বিষহ এবং জীবন শেষ করে দেওয়ার মতো ভয়াবহ। তিনি মৃত্যুকে কয়েকবার খুব কাছে থেকে দেখেছেন। মানবপাচারকারীদের প্রতারণা, লিবিয়ার নির্যাতন, নৌকার অতিরিক্ত যাত্রী-সব মিলিয়ে তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল এই পথ।

আশিক মিনা বলেছেন, তিনি ১৯ অক্টোবর তার গ্রামের আরও ছয়জনের সাথে দালালের মাধ্যমে নৌকায় চড়ে অবৈধপথে ইতালি যাওয়ার জন্য রওনা হন। বাকিদের কেউ এখনও বাড়ি ফেরেননি। তারা না ফেরা পর্যন্ত দালালদের বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।

লিবিয়ার উপকূলের ভূমধ্যসাগরে তাদের বহনকারী নৌকাটি ডুবে যেতে শুরু করলে চারদিকে হাহাকার আর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নৌকায় থাকা ৭৫ জন অভিবাসন প্রত্যাশীর অনেককে আশিক নিজের চোখের সামনেই উত্তাল সমুদ্রের পানিতে ভেসে যেতে দেখছিলেন। সেই ভয়ার্ত মুহূর্তে প্রতিটি সেকেন্ডে তিনি মৃত্যুকে কাছে অনুভব করেছেন, তবু প্রাণে বাঁচার মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

আশিক মিনা বলেছেন, তারা প্রথম বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যায়। সেখান থেকে মিশর হয়ে লিবিয়া পৌঁছায়। লিবিয়াতে প্রায় এক মাস বাঙালিদের বাসায় থাকে। ১৪ নভেম্বর রাতে তাদের লিবিয়ানদের বাসায় নেওয়া হয়। পর দিন ১৫ নভেম্বর রাতে সাগরপাড় থেকে ইঞ্জিন নৌকায় তোলা হয়। তাদের নৌকা ইতালির উদ্দেশে রওনা দেয় রাতে সাড়ে ৮টার দিকে। রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার দিকে দুর্ঘটনা ঘটে।

নৌকা ছাড়ার কিছুক্ষণ পর দেখা যায় সামনে কোস্ট গার্ডের জাহাজ। সাধারণত কোস্ট গার্ডের সঙ্গে চুক্তি করা থাকে, তারাই নৌকাগুলোকে এগিয়ে দেয়। কিন্তু তাদের নৌকার চুক্তি ছিল না। অনেকক্ষণ চলার পরে দেখা যায় কোস্ট গার্ডের সদস্যরা পেছন থেকে গুলি করছে। গুলি করার পরে তাদের নৌকা এক জায়গায় ঘুরতে থাকে এবং এক পর্যায়ে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে কোস্ট গার্ডের বড় জাহাজ তাদের নৌকার ওপর উঠে যায়।

এই দুর্ঘটনায় অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। আশিক মিনা প্রাণে বাঁচার মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি এখন দেশে ফিরে এসেছেন এবং এই দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এই ঘটনা আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিরাপত্তা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার গুরুত্বের দিকে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments