রংপুরের পীরগাছা উপজেলার এক গ্রামে এক ব্যক্তি হিমালয়ের বিরল পাখি শকুন ধরে জবাই করে খেয়েছেন। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার পারুল ইউনিয়নের মনুরছড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইদ্রিস মিয়া তার বাড়ির আঙিনায় পড়ে থাকা একটি বড় আকৃতির শকুনকে ধরে জবাই করেন। পরে সেই মাংস রান্না করে পরিবারের সঙ্গে খান এবং অবশিষ্ট মাংস ফ্রিজে সংরক্ষণ করেন।
স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে গ্রামজুড়ে আলোচনা ও বিস্ময় শুরু হয়। অনেকেই বিষয়টি জানলেও এটি যে একটি সংরক্ষিত ও বিলুপ্তপ্রায় পাখি—তা সম্পর্কে ধারণা ছিল না বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর প্রথমে নজরে আনেন ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশের রংপুর জেলা প্রতিনিধি। তিনি বিষয়টি দ্রুত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটকে জানান। এর পরপরই মঙ্গলবার দুপুরে বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়।
অভিযানকালে বাড়ির ভেতর থেকে শকুনটির রান্না করা মাংস, ফ্রিজে রাখা কাঁচা মাংস এবং ছিন্নভিন্ন হাড়, চামড়া ও পাখার অংশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়, নিহত পাখিটি হিমালয়ের গৃধিনী, যা বাংলাদেশে অত্যন্ত বিরল এবং আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণরূপে সংরক্ষিত প্রজাতি।
বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালতে অভিযুক্ত ইদ্রিস মিয়া নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। তাকে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনের আওতায় দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ না করার শর্তে লিখিত অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ স্বীকার করেছেন। তবে এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে—গ্রামীণ এলাকায় বন্য প্রাণী আইন সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা এখনও খুব কম। আমরা শিগগিরই সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করব।’
এ ঘটনায় ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধ করার জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে।



