পূর্ব রেলের অধীনে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেতুর রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বা ‘পন্টেজ র্চাজ’ সমন্বয় করে পূর্বাঞ্চলের ছয়টি পথে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে ৫ থেকে ২২৬ টাকা পর্যন্ত।
আগামী ২০ ডিসেম্বর থেকে বর্ধিত এই ভাড়া কার্যকর হবে বলে পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে। সে হিসেবে ওইদিনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে বুধবার থেকে এবং সেদিন থেকেই টিকিটে বাড়তি মূল্য পরিশোধ করতে হবে যাত্রীদের।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অধীনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ নিয়ে গঠিত। পূর্ব রেলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্টের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, এ বছরের ২৫ মে রেলওয়ে মহাপরিচালকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় বাণিজ্যিক ভাড়া না বাড়িয়ে রাজস্ব বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরবর্তীতে সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত আসে।
গেল ২৫ নভেম্বর রেলওয়ের উপপরিচালক (মার্কেটিং) শাহ আলম স্বাক্ষরিত এক নির্দেশে ২০ ডিসেম্বর থেকে নতুন ‘পন্টেজ র্চাজ’ হিসেবে ভাড়া বাড়ানোর কথা বলা হয়। ৮ ডিসেম্বর সহকারী প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন ভূইঞা জনস্বার্থে প্রচারের জন্য অনুমোদন দেন।
পূর্ব রেলের হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে বর্তমানে ৩৪৬ কিলোমিটার দূরত্ব ধরে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। সেতু-কালভার্টের রক্ষণাবেক্ষণ মাশুল নির্ধারণের পর এ দূরত্ব ধরা হয়েছে ৩৮১ কিলোমিটার।
এই পথে চলাচল করা বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের শোভন চেয়ার টিকিটের দাম ৪৫০ থেকে ৪৫ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪৯৯ টাকা।
স্নিগ্ধা আসনের ভাড়া ৮৫৫ থেকে ৮৮ টাকা বাড়িয়ে ৯৪৩ টাকা, প্রথম বার্থ ১০৮ টাকা বেড়ে হয়েছে ১১৮৩ টাকা, এসি আসনের ভাড়া ১০২৫ থেকে বেড়ে ১১৩৩ টাকা এবং এসি বার্থ ১৫৯০ থেকে ১৫৬ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৭৪৬ টাকা।
এই পথের অপর আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে। এই বাড়তি ভাড়া যাত্রীদের জন্য কতটা প্রভাব ফেলবে তা দেখার বিষয়।
পূর্ব রেলের এই সিদ্ধান্তের পর যাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন যে এই বাড়তি ভাড়া যাত্রীদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করবে, অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন যে এটি রেলওয়ের জন্য প্রয়োজনীয়।
এই বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যাবে আগামী দিনগুলোতে। একটি বিষয় নিশ্চিত যে পূর্ব রেলের এই সিদ্ধান্ত যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



