মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ একটি সুসংগঠিত ‘মাদক অর্থনীতি’র উত্থান ঘটাচ্ছে। জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের বিশাল ব্যয়ভার মেটাতে আরাকান আর্মি বাংলাদেশকে তাদের মাদকের প্রধান ‘ডাম্পিং স্টেশন’ ও ‘ক্যাশ মেশিন’ হিসেবে ব্যবহার করছে।
এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের যুবসমাজ ধ্বংস হচ্ছে এবং বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতির জীবনীশক্তি ‘ডলার’ পাচার হয়ে আরাকান আর্মির রণভান্ডারে যুক্ত হচ্ছে। এটি এখন আর কেবল সীমান্ত অপরাধ নয়, বরং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও সামাজিক যুদ্ধ।
বিজিবি টেকনাফ ব্যাটালিয়নের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে (২০২০-২০২৫) যে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে, তার পরিসংখ্যান শিহরন জাগানিয়া। এ সময় ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৯৫ হাজার পিস ইয়াবা এবং প্রায় ১৫০ কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইস জব্দ করা হয়েছে। যার দাপ্তরিক মূল্য ১ হাজার ৮২৬ কোটি ৫২ লাখ টাকারও বেশি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জব্দকৃত মাদকের পরিমাণ আসল চোরাচালানের মাত্র ১০-১৫ শতাংশ। সেই হিসাবে শুধু টেকনাফ রুট দিয়েই বার্ষিক প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার মাদক চোরাচালান হচ্ছে। এই মাদক চোরাচালান বাংলাদেশের যুবসমাজ ও অর্থনীতির উপর ঝুঁকি তৈরি করছে।
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের রক্ত পানি করা অর্থ ড্রাগ লর্ডদের হাত ঘুরে ডলারে রূপান্তরিত হয়ে আরাকান আর্মির অত্যাধুনিক গোলবারুদ, যোগাযোগ সরঞ্জাম ও ড্রোন কেনার প্রধান অর্থায়নে পরিণত হচ্ছে। আরাকান আর্মি সরাসরি মাদক উৎপাদন না করলেও একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। মিয়ানমারের শান রাজ্য বা গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল থেকে আসা ইয়াবা ও আইস যখন আরাকান হয়ে বাংলাদেশের দিকে অগ্রসর হয়, তখন আরাকান আর্মি সেই চালানের নিরাপত্তার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের ‘সুরক্ষা কর’ আদায় করে।
এই মাদক চোরাচালান রোধ করা না গেলে বাংলাদেশের বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে এই মাদক চোরাচালান ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে কাজ করবে। বিপুল ক্যাপিটাল আউটফ্লো বা পুঁজি পাচার বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে চরম রক্তক্ষরণ ঘটাবে। এই মাদক চোরাচালান রোধ করার জন্য সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাংলাদেশের যুবসমাজ ও অর্থনীতির উপর এই মাদক চোরাচালানের ঝুঁকি কমানোর জন্য সরকারকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে। মাদক চোরাচালান রোধ করার জন্য সরকারকে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়াতে হবে এবং মাদক চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
মাদক চোরাচালান রোধ করার জন্য সরকারকে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। মাদক চোরাচালানের ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে হবে এবং মাদক চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করতে হবে। মাদক চোরাচালান রোধ করার জন্য সরকারকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে হবে। মাদক চোরাচালান রোধ করার জন্য সরকারকে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে সহযোগিতা করতে হবে এবং মাদক চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
মাদক চোরাচালান রোধ করার জন্য সরকারকে দীর্ঘমেয়াদ



