বাংলাদেশে অনলাইন অপব্যবহার নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর একটি বড় প্রভাব ফেলছে। অনেক নারী যারা অনলাইন অপব্যবহারের শিকার হয়েছেন, তারা বলছেন যে তারা হতাশা, উদ্বেগ এবং চাপের মধ্যে রয়েছেন। এই মানসিক সমস্যাগুলি প্রায়শই তাদের দৈনন্দিন জীবন, সম্পর্ক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যকে ব্যাহত করে।
অনেক ক্ষেত্রে, মানসিক ক্ষতি শারীরিক উপসর্গ হিসেবেও প্রকাশ পায়, যেমন মাথাব্যথা, পেটব্যথা এবং ঘুমের সমস্যা। এই তথ্যগুলি একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় উঠে এসেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা জরিপ ২০২৪-এ দেখা যায় যে প্রযুক্তি ব্যবহারকারী নারীদের মধ্যে ৮% অনলাইন অপব্যবহারের শিকার হয়েছেন। এই ধরনের অপব্যবহারের সবচেয়ে বেশি শিকার হয়েছেন তরুণ এবং শহুরে নারীরা। ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে ১৬% বলেছেন যে তারা এই ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
অনলাইন অপব্যবহারের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা শিক্ষা এবং সম্পদের উপরও নির্ভর করে। স্নাতক ডিগ্রী বা তার বেশি শিক্ষা প্রাপ্ত নারীদের মধ্যে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অনলাইন অপব্যবহারের শিকার হয়েছেন, যখন শিক্ষা নেই এমন নারীদের মধ্যে এই সংখ্যা ২.৮%। প্রায় অর্ধেক অপব্যবহারকারী ছিলেন অজানা ব্যক্তি, যা দেখায় যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলি ব্যক্তিগত স্থানেও দুর্বলতা তৈরি করে।
এই সমস্যা সমাধানের জন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী বলেছেন যে নারীরা অনলাইনে যে ধরনের হুমকির সম্মুখীন হয়, তা থেকে তাদের রক্ষা করার জন্য আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি আরও বলেছেন যে অনলাইন অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য আমাদের একসাথে কাজ করতে হবে।
অনলাইন অপব্যবহার একটি গুরুতর সমস্যা যা নারীদের মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। আমাদের এই সমস্যার সমাধানের জন্য একসাথে কাজ করতে হবে। আমরা কি এই সমস্যার সমাধানের জন্য কাজ করতে পারি? আমরা কি নারীদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারি?



