জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেছেন, ক্ষমতায় এলে তার দল জাতীয় সরকার গঠন করবে। তিনি বলেছেন, দেশের স্বার্থ ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে জাতীয় সরকার গঠন করা প্রয়োজন।
সোমবার রাজধানীর গুলশানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান। তিনি বলেছেন, জামায়াত কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে বাদ দেবে না, বরং দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন নিশ্চিত এবং দুর্নীতি রোধে আগামী পাঁচ বছর জাতীয় সরকার প্রয়োজন।
জামায়াত আমির বলেছেন, জাতীয় সরকারে যুক্ত হওয়ার জন্য দুটি শর্ত রয়েছে – কেউ দুর্নীতি করবেন না এবং দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবেন না, এবং সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং বিচারব্যবস্থায় কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না।
নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে করার বিষয়ে জামায়াত আমির বলেছেন, দেশে ভোটারদের সচেতনতা এখনো পর্যাপ্ত নয়, তাই দুটি নির্বাচন আলাদা করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেছেন, ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই, নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই হওয়া উচিত।
জামায়াত আমির বলেছেন, সংখ্যানুপাতিক ভোটব্যবস্থার প্রতি দলের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, জনগণের স্বার্থেই এই পদ্ধতির দাবি জানানো হয়েছে এবং ক্ষমতায় গেলেও পিআর বাস্তবায়নে থাকবেন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রাজনীতিতে ধর্ম ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেছেন, ধর্ম তাদের চিন্তা ও চেতনার অংশ, ব্যবহার করার উপকরণ নয়। তিনি বলেছেন, জামায়াত ধর্মকে কাজে লাগায় না, যারা নির্বাচন এলে টুপি-তসবিহ নিয়ে হাজির হন, তারা ধর্মকে ব্যবহার করেন।
জামায়াত আমিরের এই ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশের ভবিষ্যত নির্বাচনে জামায়াতের ভূমিকা কী হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করছেন।



