থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। সোমবার সকালে উভয় দেশের সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ করা হয়েছে।
থাই সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিশোধ নিতেই কম্বোডিয়ার সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সোমবার এর আগে কম্বোডিয়ার হামলায় একজন থাই সেনা নিহত ও দুইজন আহত হয়েছেন।
থাই মেজর জেনারেল উইনথাই সুভারি বলেন, চং আন মা পাস এলাকায় কম্বোডিয়ার অস্ত্র সহায়ক অবস্থানগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। কারণ এসব স্থাপনা থেকে থাইল্যান্ডের আনুপং ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। এতে একজন সেনা নিহত ও দুইজন আহত হয়েছেন।
থাই সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার রাত ৩টায় কম্বোডিয়া থাই সীমান্তে হামলা শুরু করে। তবে কম্বোডিয়া এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, ভোর ৫টায় থাই বাহিনী কম্বোডিয়ার বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এটা উল্লেখ করা উচিৎ যে অনেক দিন ধরে থাই বাহিনীর উসকানিমূলক পদক্ষেপের কারণে এই হামলা শুরু হয়েছে।
গত জুলাইতে সীমান্তে দুই দেশের মধ্যে পাঁচদিনের সংঘাত হয়। এতে উভয়পক্ষের কয়েক ডজন লোক নিহত হয়েছে এবং অন্তত দুই লাখ লোককে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর উভয় দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কথা বলার পর দেশ দুইটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
এরপর ট্রাম্প ও মালয়েশিয়ান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের উপস্থিতিতে গত অক্টোবরে কুয়ালালামপুরে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাড়ানো হয়। তবে এরপরেও দেশ দুইটি নতুন করে সংঘর্ষে জড়ালো।
এই সংঘর্ষ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে আরও খারাপ করে তুলছে।
এই সংঘর্ষের ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে।
এই সংঘর্ষ থামাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা প্রয়োজন। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করা উচিত। এই সংঘর্ষ থামাতে সমষ্টিগত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।



