পিঁপড়ার কলোনিতে রোগের প্রাদুর্ভাব রোধ করার জন্য অসুস্থ তরুণ পিঁপড়ারা এক বিশেষ রাসায়নিক গন্ধের মাধ্যমে সংকেত পাঠায়। এই গন্ধ কর্মী পিঁপড়াদের বলে যে তারা অসুস্থ পিঁপড়াটিকে মেরে ফেলুক।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে পিঁপড়ার কলোনি একটি একক সুপার-অর্গানিজম হিসেবে কাজ করে, যেখানে সবার সম্মিলিত অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়। অস্ট্রিয়া-ভিত্তিক বিজ্ঞানীদের একটি দল জানিয়েছে যে পিঁপড়ার ক্ষেত্রেও আমাদের শরীরের সংক্রমিত কোষগুলি যেমন আমাকে খুঁজে খাওয়া সংকেত পাঠায়, ঠিক তেমনি একই ধরনের প্রক্রিয়া দেখা যায়।
পূর্ণবয়স্ক কর্মী পিঁপড়ারা যদি এমন কোনো রোগে আক্রান্ত হয় যা কলোনিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে, তবে তারা স্বেচ্ছায় বাসা ছেড়ে একা গিয়ে মারা যায়। কিন্তু গুটির মধ্যে থাকা তরুণ পিঁপড়াদের পক্ষে এই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়।
বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে অসুস্থ তরুণ পিঁপড়ারা যখন মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন তাদের শরীরে একটি রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে যা একটি বিশেষ গন্ধ তৈরি করে। এই গন্ধের কারণে পূর্ণবয়স্ক কর্মী পিঁপড়ারা পিউপাটিকে ঘিরে ধরে, গুটি ছিঁড়ে ফেলে, পিউপার গায়ে ছিদ্র করে এবং বিষ প্রবেশ করে।
নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন যে তরুণ পিঁপড়ারা কি তবে সক্রিয়ভাবে বলছে ‘আরে, এসো আর আমাকে মেরে ফেলো?’ গবেষণায় দেখা যায়, অসুস্থ তরুণ পিঁপড়ারা কেবল তখনই এই গন্ধ উৎপাদন করে যখন কর্মী পিঁপড়ারা কাছাকাছি থাকে। এর থেকে প্রমাণিত হয়, এটি ধ্বংসের জন্য একটি সুচিন্তিত সংকেত।
বিজ্ঞানীরা বলেন, যদিও এটি একটি আত্মত্যাগ, একটি পরার্থপর কাজ। তবে এটি তাদের নিজেদের স্বার্থেও বটে, কারণ এর অর্থ হলো তাদের জিন বেঁচে থাকবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে স্থানান্তরিত হবে।
এই আত্মত্যাগের নিয়মের একটি ব্যতিক্রমও আছে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, রানি পিঁপড়ার পিউপারা গুটির ভেতরে আক্রান্ত হলেও এই দুর্গন্ধযুক্ত গন্ধ তৈরি করে না।
পিঁপড়ার এই আত্মত্যাগের কাহিনী আমাদেরকে ভাবিয়ে তোলে যে কিভাবে একটি সমাজ তার সদস্যদের মঙ্গল নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে। এটি আমাদেরকে আমাদের নিজস্ব সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং সহযোগিতার গুরুত্ব সম্পর্কে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করে।
পিঁপড়ার এই অসাধারণ আচরণ আমাদেরকে প্রকৃতির বিচিত্রতা এবং জটিলতা সম্পর্কে শিক্ষা দেয়। এটি আমাদেরকে পরিবেশ এবং বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করে এবং আমাদের প্রাকৃতিক বিশ্বের সাথে সম্পর্ক সম্পর্কে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করে।
সুতরাং, পিঁপড়ার এই আত্মত্যাগের কাহিনী আমাদেরকে কি শিক্ষা দেয়? এটি আমাদেরকে সহযোগিতা, দায়িত্ববোধ, এবং পরিবেশের প্রতি সচেতনতার গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষা দেয়। এটি আমাদেরকে প্রকৃতির বিচিত্রতা এবং জটিলতা সম্পর্কে শিক্ষা দেয় এবং আমাদেরকে পরিবেশ এবং বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করে।
আমরা কি পিঁপড়ার এই আত্মত্যাগের কাহিনী থেক



