রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার তারাপুর কবরস্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থলের বেড়াটি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই ঘটনাটি ঘটেছে আজ সকালে। তারাপুর জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ও কবরস্থানের দেখভালকারী শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ফজরের নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়ার সময় তিনি এই অগ্নিকাণ্ডের দেখা পেয়েছিলেন।
তিনি মসজিদের লাউডস্পিকারের মাধ্যমে ঘটনাটি জানিয়েছিলেন, যার পরে স্থানীয় লোক ও নিকটবর্তী মাদ্রাসার ছাত্ররা এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছে। শহিদুল ইসলাম বলেছেন, এটি স্পষ্টতই একটি অগ্নিসংযোগের ঘটনা। এখানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, আর কোনো রাস্তার কাছাকাছি নয়, যেখানে দুর্ঘটনাবশত আগুন লাগতে পারে।
বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কবরস্থান ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. সাজিব হোসেন জানিয়েছেন, তারাপুর কবরস্থানটি ১৯৪৬ সালে প্রায় তিন একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালে এই জমির প্রায় চার শতাংশ মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এখন পর্যন্ত এই সংরক্ষিত অংশে পাঁচজন মুক্তিযোদ্ধাকে সমাহিত করা হয়েছে। এই স্থানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া একটি লজ্জাজনক ঘটনা। প্রায় ১০০ ফুট বেড়া পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
বাহাদুরপুর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শামশের আলী বলেছেন, এটি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির কাজ। তারা এই ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দোষীদের নিষ্ঠুর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পাংশা মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আবদুল গনি জানিয়েছেন, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থলের বেড়াটি ইচ্ছাকৃতভাবে পুড়ে দেওয়া হয়েছে। কবরস্থান ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি বিকেলে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
পাংশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রিফাতুল হক জানিয়েছেন, তিনি অবিলম্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মনে হচ্ছে, আগুন ধরানোর জন্য পেট্রোল বা অন্য কোনো জ্বালানি ব্যবহার করা হয়েছে। পুড়ে যাওয়া বেড়াটি দ্রুত মেরামত করা হবে এবং দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
এই ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং দোষীদের গ্রেফতার করার চেষ্টা করছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থলে এই ধরনের ঘটনা ঘটানো একটি লজ্জাজনক বিষয়। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এই ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন ও স্থানীয় জনগণ ক্ষুব্ধ। তারা এই ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সরকারকে এই ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে। তাদের এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধ করার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। স্থানীয় জনগণকেও সচেতন থাকতে হবে এবং এই ধরনের ঘটনা ঘ



