বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীকে দেখেছে কীভাবে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, কিছু কিছু মানুষ বা কোনো কোনো গোষ্ঠী ইদানীং বলতে শুনেছি যে, অমুককে দেখুন। যাদের কথা বলে অমুককে দেখুন, তাদের তো দেশের মানুষ ১৯৭১ সালেই দেখেছে।
তারেক রহমান বলেন, লক্ষ লক্ষ মানুষকে শুধু হত্যা করেনি, তাদের সহকর্মীরা কীভাবে মা-বোনদের ইজ্জত পর্যন্ত লুট করেছিল, এই কথাটি আমাদের মনে রাখতে হবে। তিনি বলেন, দোজখ, বেহেশত, দুনিয়া সবকিছুর মালিক আল্লাহ। যেটার মালিক আল্লাহ, যেটার কথা একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই বলতে পারেন, সেখানে যদি আমি কিছু বলতে চাই, আমার নরমাল দৃষ্টিকোণ থেকে আমি বুঝি যে, সেটি হচ্ছে শিরক। সেটি হচ্ছে শিরকের পর্যায়ে পড়ে।
বিজয়ের মাস উপলক্ষে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। এতে ছাত্রদলের সারা দেশের জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন ইউনিটের হাজারের বেশি নেতা অংশ নেয়। কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের কিছু ব্যক্তি বা বেশ কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন জিনিসের টিকিট বিক্রি করে বেড়াচ্ছেন। বিভিন্ন জিনিসের কনফারমেশন দিয়ে বেড়াচ্ছেন।
তারেক রহমান বলেন, ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে বোঝাতে হবে যারা এসব কথা বলে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ ১৯৭১ সালেই জামায়াতে ইসলামীকে দেখেছে কীভাবে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, ঠিক যেভাবে পতিত স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছিল ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য।
তারেক রহমানের এই বক্তব্য একটি রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা তারেক রহমানের বক্তব্যকে ভুল ও বিভ্রান্তিকর বলে অভিহিত করেছেন। তারা বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল এবং দেশের স্বাধীনতা অর্জনে ভূমিকা রেখেছিল।
এই বিতর্ক বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে এই বিতর্ক আগামী দিনে রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।



