পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বেনিনে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিস ট্যালনকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টিভিতে একদল সৈন্য উপস্থিত হয়ে এই ঘোষণা দেয়। তারা জানিয়েছে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল পাস্কাল টিগ্রিকে নবগঠিত ‘পুনর্গঠনের জন্য সামরিক কমিটি’-এর নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে।
বেনিন ১৯৬০ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর একাধিক অভ্যুত্থানের সাক্ষী হয়েছে, বিশেষ করে স্বাধীনতার পরবর্তী দশকগুলোতে। ১৯৯১ সাল থেকে মার্কসবাদী-লেনিনবাদী ম্যাথিউ কেরেকোর দুই দশকের শাসনের পর দেশটি রাজনৈতিকভাবে অনেকটাই স্থিতিশীল রয়েছে।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিস ট্যালন ২০১৬ সাল থেকে ক্ষমতায় আছেন এবং আগামী এপ্রিলে তার পদত্যাগ করার কথা ছিল। বেনিনের ফরাসি দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের বাসভবনের কাছে ক্যাম্প গুয়েজোতে গুলি চালানোর খবর পাওয়া গেছে।
দূতাবাস তার নাগরিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাড়িতে থাকার আহ্বান জানিয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত। এই ঘটনার পর বেনিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ বাড়ছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ নভেম্বর গিনি-বিসাউয়ের একদল সেনা কর্মকর্তা দেশটির ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ নিজেদের হাতে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এর একদিন আগে দেশটির প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দুই শীর্ষ প্রার্থীই নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করেছিলেন। এই ঘটনাগুলো পশ্চিম আফ্রিকার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
বেনিনের সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা দেশটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনর্যাত্রার আহ্বান জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বেনিনের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
বেনিনের সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনায় দেশটির রাজনৈতিক দৃশ্যপট পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘটনার পর দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা এবং দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে বেনিনের জনগণের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।



