পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বেনিনে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটেছে। সেনাবাহিনী জাতীয় টেলিভিশনে ঘোষণা করেছে যে তারা প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিস তালনকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে এবং দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
ফ্রান্সের দূতাবাস থেকে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে রাষ্ট্রপতির বাসভবনের নিকটবর্তী এলাকায় গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। সেনাবাহিনী আরও ঘোষণা করেছে যে তারা সংবিধান স্থগিত করেছে, সমস্ত স্থল সীমান্ত এবং দেশের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে।
সেনাবাহিনীর বিবৃতি অনুসারে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল টিগ্রি প্যাসকাল একটি সামরিক পরিবর্তন পরিষদের নেতৃত্ব দেবেন। তারা তাদের কর্মকাণ্ডের ন্যায্যতা দেখিয়েছে প্রেসিডেন্ট তালনের দেশ পরিচালনার সমালোচনা করে।
প্রেসিডেন্ট তালন, ৬৭ বছর বয়সী, পরের বছর তার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে পদত্যাগ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে, এপ্রিলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি একজন ব্যবসায়ী, যাকে ‘তুলার রাজা’ বলা হয়, তিনি প্রথম ২০১৬ সালে নির্বাচনে ক্ষমতায় আসেন। তিনি তৃতীয় মেয়াদে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেননি এবং ইতিমধ্যেই একজন উত্তরসূরিকে মনোনীত করেছেন।
ফ্রান্সের দূতাবাস তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য বাড়িতে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বেনিনে এই সামরিক অভ্যুত্থানটি ঘটেছে মাত্র এক সপ্তাহ পরে নিকটবর্তী গিনি-বিসাউতে প্রেসিডেন্ট উমারো সিসোকো এমবালোকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, পশ্চিম আফ্রিকায় বেশ কয়েকটি অভ্যুত্থান হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বুরকিনা ফাসো, গিনি, মালি এবং নাইজার, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বেনিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত অস্থিতিশীল। সামরিক অভ্যুত্থানের পরে দেশটি কীভাবে এগিয়ে যাবে তা এখনও অস্পষ্ট। প্রেসিডেন্ট তালনের সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও বিতর্ক ছিল, কিন্তু সামরিক অভ্যুত্থান কেউ আশা করেনি।
বেনিনের সামরিক অভ্যুত্থানের পরে আফ্রিকার অন্যান্য দেশগুলিতে প্রতিক্রিয়া ভিন্ন ভিন্ন হবে। কিছু দেশ সামরিক অভ্যুত্থানকে সমর্থন করতে পারে, অন্যদিকে অন্যরা এর নিন্দা করতে পারে। বেনিনের ভবিষ্যত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত।
বেনিনের সামরিক অভ্যুত্থান আফ্রিকার রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এটি দেখায় যে সামরিক বাহিনী এখনও অনেক আফ্রিকান দেশে রাজনৈতিক ক্ষমতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বেনিনের ভবিষ্যত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও অস্পষ্ট, কিন্তু এটি নিশ্চিত যে সামরিক অভ্যুত্থান দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি ঘটাবে।



