পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাচীন যোদ্ধা জাতি হিসেবে লুসাইদের পরিচিতি রয়েছে। তারা স্বাধীনচেতা এবং কখনো কারো বশে আসেনি। ১৮৭১ সালে, আসাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে জেনারেল ব্রাউনলো ও বোর্চিয়ারের নেতৃত্বে লুসাই দমন অভিযান পরিচালিত হয়। দীর্ঘ অভিযানের পর, লুসাইরা সন্ধি করতে বাধ্য হয়।
লুসাইদের মধ্যে বীরত্বের কদর আছে। গ্রামের বীরযোদ্ধাকে সবাই সম্মান করে। তারা যুদ্ধকৌশলে পারদর্শী এবং গ্রামগুলোয় শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য উঁচু টংঘর থাকত। লুসাই পুরুষেরা ‘জলবুক’ নামের বিশেষ একটি ঘরে থাকতেন, যেখানে অস্ত্র সঙ্গে রাখা ছিল বাধ্যতামূলক।
সাজেকের লুসাই সাংস্কৃতিক পার্কে গিয়ে, পর্যটকেরা ‘জলবুক’ ঘরের দেখা পাবেন। পার্কে রাখা সাংস্কৃতিক উপকরণে বর্ণাঢ্য লুসাই জীবন যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে। লুসাই যোদ্ধাদের ম্যুরাল, বীরদের বীরত্বের কাহিনিও লিপিবদ্ধ আছে সেখানে।
পার্কটি খুব সুপরিসরে না হলেও, হরেক রঙের বাহারি ফুল, গাছগাছালিতে ভরা। সব মিলিয়ে যেন এক অন্য জগৎ। পর্যটকেরা সাজেকের লুসাই সাংস্কৃতিক পার্কে গিয়ে লুসাই ঐতিহ্যের স্ফূরণ অনুভব করতে পারেন।
সাজেক পর্যটনকেন্দ্রটি ভারতের মিজোরাম সীমান্তের পাশে ১ হাজার ৮০০ ফুট উঁচু রুইলুই পাহাড়ে অবস্থিত। পাহাড়চূড়ায় লুসাইদের প্রাচীন বাসস্থান রুইলুইপাড়া ও কংলাকপাড়া রয়েছে। সেখানেই গড়ে উঠেছে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র। আর এই নিসর্গের মধ্যে লুসাই সাংস্কৃতিক পার্কটি সাজেক পর্যটনকেন্দ্রকে আরও বেশি মুগ্ধতায় ভরিয়ে তুলেছে।
পর্যটকেরা সাজেকের লুসাই সাংস্কৃতিক পার্কে গিয়ে লুসাই ঐতিহ্যের স্ফূরণ অনুভব করতে পারেন। তারা লুসাই পোশাকে পার্কে ঘুরে বেড়াতে পারেন এবং লুসাই সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হতে পারেন। সাজেকের লুসাই সাংস্কৃতিক পার্ক পর্যটকদের জন্য একটি অনন্য অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
পর্যটকেরা সাজেকের লুসাই সাংস্কৃতিক পার্কে গিয়ে কীভাবে লুসাই ঐতিহ্যের স্ফূরণ অনুভব করতে পারেন? তারা কীভাবে লুসাই সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হতে পারেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পেতে, পর্যটকেরা সাজেকের লুসাই সাংস্কৃতিক পার্কে গিয়ে নিজেদেরকে লুসাই ঐতিহ্যের মধ্যে ডুবিয়ে দিতে পারেন।



