বাংলাদেশে শিশুশ্রম একটি উগ্র সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে এই বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এডুকো বাংলাদেশ ও চাইল্ড লেবার ইলিমিনেশন প্ল্যাটফর্ম (ক্ল্যাপ) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন শ্রম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, শিশুশ্রম বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা। দারিদ্র্য শিশুশ্রমের মূল কারণ। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কর্মতৎপরতার পরেও অনেক শিশু বেঁচে থাকার তাগিদে শ্রমে নিযুক্ত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নাজমুজ্জামান ভুইয়া বলেন, সংশোধিত শ্রম আইনে অনুষ্ঠানিক খাতে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়নি। অতএব, অনানুষ্ঠানিক খাতে শিশুশ্রমের মজুরি নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক উভয় খাতেই নিযুক্ত শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করার সুপারিশ করেন।
এডুকো বাংলাদেশের ব্যবস্থাপক আফজাল কবির খান বলেন, বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা সংশোধনে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিবে বলে আশা করা যায়। তিনি বলেন, নিযুক্ত শিশুরা নানাধরনের শোষণ, নিপীড়ন, নির্যাতন এবং অবৈধ কাজে বাধ্য হয়।
শ্রম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, সরকার শিশুশ্রম নিরসনের ব্যাপারে খুবই ইতিবাচক। কিন্তু সরকারের একার পক্ষে এই কাজে সফলতা অর্জন সম্ভব নয়। তাই সম্মিলতি প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এজন্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নে সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশন (বিএলএফ)-এর নির্বাহী পরিচালক এ কে এম আশরাফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন চাইল্ড লেবার মনিটরিং কাউন্সিলের কো-চেয়ার অ্যাডভোকেট সালমা আলী, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি (বিএনডব্লিউএলএ)-র সভাপতি অ্যাডভোকেট সীমা জহুর, এডুকো বাংলাদেশের প্রোগ্রাম পরিচালক আব্দুর রহিম, ইনসিডিন বাংলাদেশের মুশফিকুর রহমান সাব্বির, এএসডির শাহিনুল ইসলাম, কারিতাস বাংলাদেশের রবিউল ইসলাম প্রমুখ।
বাংলাদেশে শিশুশ্রম নিরসনের জন্য সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। এজন্য সরকারকে বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা সংশোধন করতে হবে। শিশুশ্রম নিরসনের জন্য সকলকে একত্রিত হতে হবে।



