ফরিদপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে একজন ওটিবয় একজন রোগীর অস্ত্রোপচার করেছেন। এই অস্ত্রোপচারের পর রোগীর স্তনে সংক্রমণ দেখা দেয় এবং শেষ পর্যন্ত স্তনের সংক্রমিত অংশটি কেটে ফেলতে হয়।
এই ঘটনাটি ফরিদপুরের সুরক্ষা প্রাইভেট হাসপাতালে ঘটেছে। রোগী ববিতা বেগম (২৮) ফরিদপুরের কানাইপুর ইউনিয়নের খাসকান্দি গ্রামের প্রবাসী সরোয়ার আলমের স্ত্রী। তাঁর সাত বছর বয়সী এক মেয়ে ও এক বছর বয়সী দুধপোষ্য ছেলে রয়েছে।
ববিতা বেগম জানিয়েছেন, গত ১৮ নভেম্বর তিনি সার্জারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আতিকুর আহসানের কাছে দেখান। চিকিৎসক তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বায়োপসি পরীক্ষার পরামর্শ দেন। কিন্তু ওটিবয় নিয়ামুল তাঁকে মেডিকেলে না যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং নিজেই অস্ত্রোপচার করেন।
অস্ত্রোপচারের পর ববিতা বেগমের স্তনে সংক্রমণ দেখা দেয়। এরপর ২ ডিসেম্বর তিনি আবার চিকিৎসক আতিকুর আহসানের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসক তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেন। গত ৪ ডিসেম্বর সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সেদিনই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সংক্রমিত অংশটি কেটে ফেলা হয়।
সার্জারি বিভাগের ইউনিট প্রধান ডা. আতিকুর আহসান জানিয়েছেন, সাধারণত চিকিৎসক একটি ফাঁপা সুঁচ ব্যবহার করে টিস্যু সংগ্রহ করেন। কিন্তু এসব উপেক্ষা করে ওটিবয় নিয়ামুল অস্ত্রোপচার করেছেন।
এই ঘটনাটি চিকিৎসা পেশায় দুর্নীতি ও অদক্ষতার একটি উদাহরণ। এটি রোগীদের জন্য একটি বড় ঝুঁকি তৈরি করে। চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।
চিকিৎসা পেশায় সততা ও দক্ষতা অপরিহার্য। চিকিৎসক ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রোগীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করার জন্য সরকার ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে একসাথে কাজ করতে হবে।
চিকিৎসা পেশায় দুর্নীতি ও অদক্ষতা প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে। আমাদের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রোগীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।



